গিরিশ মজুমদার, শিলিগুড়ি, ৩০ মার্চ— উত্তরবঙ্গে প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হল। রিপোর্ট পজিটিভ আসার ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই মৃত্যু হল কালিম্পঙের সেই মহিলার। বয়স হয়েছিল ৪৫ বছর। উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তাঁকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য প্রায় সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়া হলেও চিকিৎসায় সাড়া দেননি তিনি। মাত্র ৪ দিনই তঁার চিকিৎসা হয়েছিল মেডিক্যালে। হাসপাতাল সূত্রের খবর, রাত প্রায় ২টো নাগাদ তাঁর মৃত্যু হয়। মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সুপার কৌশিক সমাজদার বলেন, ‘‌করোনা আক্রান্ত ওই মহিলাকে বাঁচানোর যাবতীয় চেষ্টা করা হয়েছিল। প্রয়োজনে কলকাতাও পাঠানো হত। কিন্তু সময় পাওয়া যায়নি।’
অন্যদিকে, মৃত্যুর পর মহিলার দেহ দাহ করা নিয়ে সমস্যা দেখা দেয়। নিয়ম মেনে মহিলার মৃতদেহ পরিবারের হাতে দেওয়া হয়নি। স্বাস্থ্য দপ্তর দেহ সৎকার করে। প্রথমে শিলিগুড়ির কিরণচন্দ্র শ্মশান ঘাটে দেহ নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু পরে সাহুডাঙিতে নিয়ে যায় প্রশাসন। সংক্রমণের আশঙ্কায় দেহ সৎকারে বাধা দেন স্থানীয়দের একাংশ। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে সমস্যা মেটে। এদিকে মহিলার মৃত্যুকে ঘিরে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। জানা গেছে, মৃতা মহিলা ৭ মার্চ চেন্নাই যান। ১৯ মার্চ মেয়েকে নিয়ে চেন্নাই থেকে উত্তরবঙ্গে ফেরেন। তারপর জ্বর, সর্দি সহ করোনার লক্ষণ নিয়ে কালিম্পঙে ২০ মার্চ স্থানীয় এক ডাক্তারের কাছে পরীক্ষা করান। কফ, সর্দি, কাশি থাকায় এরপর ২৬ মার্চ আবার নিজের গাড়ি করে শিলিগুড়ির এক আত্মীয়ের বাড়িতে এসে ওঠেন। সেখান থেকে শিলিগুড়ির একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সিটিস্ক্যান ও এক্স–‌রে করানো হয়।
এরপর উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে এসে পরীক্ষা করেন। গত ২৬ মার্চ তিনি ভর্তি হন। শনিবার রাতে জানা যায়, ওই মহিলার করোনা পজিটিভ। ইতিমধ্যে মহিলার সংস্পর্শে আসা ১৩ জনকে জলপাইগুড়ি‌ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মৃত মহিলা‌র পরিবারের কয়েকজন সদস্য। রয়েছে‌ন গাড়ি‌র চালক, প্রতিবেশী ও ল্যাবের কর্মী। তাঁদের সকলের রক্ত ও লালার নমুনা সংগ্রহ করে উত্তর‌বঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনে তাঁদের প্রত‍্যেককে‌ই আইসোলেশন ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে। যে ডাক্তারের কাছে ওই মহিলা গিয়েছিলেন, সেই ডাক্তারও হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন।

উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল থেকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে মৃতদেহ। ছবি:‌ শৌভিক দাস

জনপ্রিয়

Back To Top