গিরিশ মজুমদার, শিলিগুড়ি: চার দিনের সফরে সোমবার উত্তরবঙ্গে এলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। মঙ্গলবার পাহাড় নিয়ে বৈঠক পিনটেল ভিলেজে। পাহাড়ের রাজনৈতিক সমীকরণ পাল্টে গেছে। মোর্চার সর্বোচ্চপদে বিনয় তামাং। তিনি রাজ্যের সঙ্গেই উন্নয়নে বিশ্বাসী। মঙ্গলবারের বৈঠকে পাহাড়ের জন্য বড় ধরনের সিদ্ধান্ত হতে পারে।  পর্যটন থেকে শিক্ষা— সব ক্ষেত্রে ঢালাও কাজের পরিকল্পনা করে এসেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু মাঝে গুরুংদের আন্দোলনে সমস্ত ভেস্তে যায়। বিনয় তামাংরা যেভাবে মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি আস্থা রেখেছেন, তাতে পাহাড়ে ফের উন্নয়নের বন্যা আসতে চলেছে বলে মনে করছেন অনেকেই। এদিন তিনি সন্ধে ৫টা ৫০ মিনিটের উড়ানে বাগডোগরায় নামেন। বিমানবন্দরের বাইরে আগে থেকেই শ’‌য়ে শ’‌য়ে মানুষ তাঁর অপেক্ষায় ছিলেন। একঝলক মুখ্যমন্ত্রীকে দেখবেন সেই আশায় দুপুর থেকে ভিড় তাঁদের। সন্ধের সময় এতটা ভিড় হয়ে যায় যে পুলিসকে হিমশিম খেতে হয়। বাধ্য হয়ে পুলিসের পক্ষ থেকে একাংশকে এক কিলোমিটার দূরে দাঁড় করিয়ে দেন। হুড়োহুড়ি এড়াতে ব্যারিকেডও দিয়ে দেওয়া হয়। দুপুর থেকে যাঁদের অপেক্ষা তাঁদের কিন্তু নিরাশ করেননি মুখ্যমন্ত্রী। বিমানবন্দর থেকে বেরিয়েই হেঁটে চলে আসেন ব্যারিকেডের কাছে। তারপর সবার সঙ্গে হাত মেলান। এদিন পাহাড় থেকেই বেশি লোকজন এসেছিলেন। পাহাড়ের বিভিন্ন জনজাতি, উপজাতি থেকে বিভিন্ন বোর্ডের সদস্যরাই আসেন। তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীকে খাদা পরিয়ে ফুলের তোড়া দিয়ে স্বাগত জানান। বিমানবন্দরের বাইরে ‘‌মুখ্যমন্ত্রী জিন্দাবাদ’‌, ‘‌মমতা দিদি জিন্দাবাদ’‌ বলে স্লোগানে মুখরিত। বেশ কয়েক মিনিট এভাবে সবার থেকে শুভেচ্ছে নিয়ে গাড়িতে উঠতে যান। সেসময় পাহাড়ের কয়েকজন মহিলাকে দেখে এগিয়ে যান তিনি। তাঁদের ‘‌ভাল থাকুন’‌ বলে গাড়িতে উঠে পড়েন। এরপর সড়কপথে সোজা চলে আসেন উত্তরকন্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কলকাতা থেকে এসেছেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও ইন্দ্রনীল সেন। এদিকে, তাঁকে স্বাগত জানাতে অনেক আগেই বিমানবন্দরে হাজির হন পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব। উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, বনমন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মন। এ ছাড়া ছিলেন শিলিগুড়ির তৃণমূল কাউন্সিলর রঞ্জন শীলশর্মা, কৃষ্ণচন্দ্র পাল, নান্টু পাল, প্রাক্তন বিধায়ক ডাঃ রুদ্রনাথ ভট্টাচার্য ও পাহাড়ের তৃণমূল নেতৃত্বরা। মুখ্যমন্ত্রী চলতে চলতে তাঁদের কিছুটা খোঁজ নিয়ে নেন। ৬টা নাগাদ বেরিয়ে চলে আসেন উত্তরকন্যার সরকারি অতিথি নিবাসে। এবার মুখ্যমন্ত্রী দুটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবেন। একটি বৈঠক পাহাড় নিয়ে। অন্যটি তিন জেলাকে নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক। এই দুটি বৈঠক ঘিরে এখন চরম ব্যস্ততা চলছে প্রশাসনিক পর্যায়ে। মঙ্গলবার বিকেল ৪টেয় দার্জিলিং মোড়ের কাছে পিনটেল ভিলেজে হবে পাহাড় নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক। ওই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে থাকছেন বিনয়পন্থীরা। সেখানেই পাহাড়ের উন্নয়ন নিয়ে হবে আলোচনা। সেখানে পাহাড়ের জিটিএ–র প্রশাসক বোর্ডের কর্তাব্যক্তিদেরও ডাকা হয়েছে। বৈঠকে থাকবেন জেলা ও রাজ্য প্রশাসনের কর্তারা। বুধবার উত্তরকন্যায় রয়েছে উত্তরবঙ্গের তিন জেলার প্রশাসনিক বৈঠক। এবার বৈঠক জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার জেলা নিয়ে। দুপুর দুটো থেকে বৈঠক শুরু হওয়ার কথা। এই বৈঠকে জেলা প্রশাসন, পুলিস প্রশাসন থেকে পঞ্চায়েত সমিতি পর্যন্ত আধিকারিকেরা থাকবেন। বৈঠকের পরে উত্তরকন্যার কন্যাশ্রী বাংলোতে থাকবেন তিনি। পরের দিন বৃহস্পতিবার তিনি কলকাতায় ফিরবেন বলে জানা গেছে।

জনপ্রিয়

Back To Top