অম্লানজ্যোতি ঘোষ, আলিপুরদুয়ার, ৪ জানুয়ারি- আলিপুরদুয়ার লাগোয়া গ্রাম থেকে ফের অপহরণ করা হল এক চাল ব্যবসায়ীকে। নাম স্বপন দাস (‌৫০)‌। সন্দেহ, এই অপহরণ–কাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অসমের দুষ্কৃতীরা। অপহরণের জন্য স্থানীয় দুষ্কৃতীদের সাহায্য নেওয়া হয়েছিল। বুধবার আনুমানিক সন্ধে সাড়ে ৭টা নাগাদ অন্তত ৫–৬ জনের একটি দল তাঁকে বাড়ি ফেরার পথে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। পুলিস সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় যোগ যথেষ্টই স্পষ্ট। তবে ভিন রাজ্যের দুষ্কৃতীদের যোগাযোগ থাকতে পারে। সকাল থেকে আলিপুরদুয়ার জেলা জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য। অপহৃত স্বপন দাসের পরিবারে উদ্বেগ–আতঙ্ক ছড়িয়েছে। তবে কারা, কেন, কী উদ্দেশ্যে সহজ–সরল স্বপনবাবুকে অপহরণ করতে গেল তা অবশ্য এদিন বিকেল পর্যন্ত পরিষ্কার হয়নি। স্বপন দাসের দাদা কাজল দাস জানান, রাতে ভাই ও তার সঙ্গে তার এক বন্ধু হরেকৃষ্ণ সরকার দু’টি বাইসাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফিরছিল। হঠাৎ ঘটনাটি ঘটে যায়। পুলিস সূত্রে প্রাথমিক জানা গেছে, দুটি বাইসাইকেলের মাঝে কিছুটা দূরত্ব ছিল। পেছনে ছিলেন হরেকৃষ্ণ। তাকে পাশ কাটিয়ে একটি মারুতি ভ্যান জাতীয় গাড়ি স্বপন দাসের পাশে গিয়ে পথ আটকায়। হরেকৃষ্ণর চোখের সামনে গাড়িতে তোলে, ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে সোনাপুরের দিকে চলে যায় অপহরণকারীরা। অপহরণকারীদের সঙ্গে কোনও আধুনিক অস্ত্র ছিল না। অপহরণের আগে মুহূর্তে কিছু লোহার রড জাতীয় অস্ত্র বার করে দলটি। এদিকে, চোখের সামনে জীবনে প্রথমবার অপহরণের ঘটনা ঘটতে দেখে হতচকিত হয়ে পড়েন হরেকৃষ্ণবাবু। ঘোর কাটতেই তাঁর চিৎকার–চেঁচামেচিতে এলাকার লোক ছুটে আসেন। জানা গেছে, স্বপন দাসের একটি চালের আড়ত রয়েছে আলিপুরদুয়ার–১ নম্বর ব্লকের পলাশবাড়িতে। কাজ শেষ করে প্রায় প্রতিদিন তিনি সন্ধে ৭টা নাগাদ বাড়ি ফেরেন। এদিকে, ঘটনাস্থলের দূরত্ব আলিপুরদুয়ার থানা থেকে কমবেশি ২৮ কিমি। শীতকালের রাতে ঘন কুয়াশায় এমনিতেই এলাকাটি সন্ধে ৬টার পরপরই জনমানবশূন্য হয়ে পড়ে। জেলার ভাতখাওয়া চা–বাগান থেকে মাস দুয়েক আগে ২৮ লক্ষ টাকা লুঠ হয়। একমাস আগে জেলা সদর লাগোয়া দমনপুরের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক থেকে প্রায় ১২ লক্ষ টাকা লুঠ হয়। দুটি ঘটনাতেই অসমের দুষ্কৃতীদের যোগাযোগ স্পষ্ট ছিল। তথ্য বলছে, এর আগেও গত পাঁচ–সাত বছরে জেলার কুমারগ্রাম ব্লক, কালচিনি ব্লকের পোরো এলাকা বেশি কিছু অপহরণের ঘটনা ঘটে। পরে জানা গেছিল, একাধিক ক্ষেত্রে অপহৃতদের অসমে নিয়ে যাওয়া হয়। এমনকী নির্দিষ্ট পরিমাণ মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পায় অপহৃতরা। পরিবারের সন্দেহ, পরিকল্পনামাফিক স্বপন দাসকে অপহরণের কাজ করেছে দুষ্কৃতীরা। এদিকে, চারদিনই পরই উত্তরবঙ্গ সফর শুরু হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীর। তার আগে এমন ঘটনায় ফের চাপ সৃষ্টি হল প্রশাসনের ওপর। পুলিস সুপার আভারু রবীন্দ্রনাথ জানান, অভিযোগ হয়েছে। পুলিস বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

স্বপন দাস।

জনপ্রিয়

Back To Top