অম্লানজ্যোতি ঘোষ, আলিপুরদুয়ার, ১৭ ফেব্রুয়ারি- পাহাড় ডিঙিয়ে জনসংযোগ জেলাশাসকের। রবিবার সান্তলাবাড়ি থেকে বক্সা ফোর্ট (‌সদর)‌, সেখান থেকে লেপচাখা, লেপচাখা থেকে ফের নেমে এসে সান্তলাবাড়ি সেখান থেকে ফের আদমা–চুনাভাটি। সব মিলিয়ে সকাল থেকে সন্ধে পাহাড়ের চড়াই–উতরাই পার করে মোট ২০ কিমি হেঁটে বক্সা পাহাড়ের ৫–৬টি গ্রামে পৌঁছে গেলেন আলিপুরদুয়ারের জেলাশাসক সুরেন্দ্রকুমার মিনা। তিন শতাধিক মানুষের সঙ্গে সরাসরি জনসংযোগ তৈরি করেন তিনি। রবিবার জেলাশাসক যেভাবে বক্সা পাহাড় দাপিয়ে বেরিয়েছেন, তাতে আশ্চর্য হয়ে গেছেন অনেকেই।
উল্লেখ্য, একজন অভিজ্ঞ ট্রেকার মিনি ট্রেকিংয়ে অভ্যস্তরাও যে পথে ট্রেক করতে চিন্তা–ভাবনা করবেন, সেখানে জেলাশাসক অন্তত ১০–১৫ জন আধিকারিককে নিয়ে অবলীলায় ঘুরে বেড়িয়েছেন। তৃণমূলের রাজাভাতখাওয়া বুথ সভাপতি অ্যালবার্ট সাংমা বলেন, ‘‌আজ যে ভাবে একজন জেলাশাসক প্রায় ৩০০০ ফুট উঁচুতে থাকা ৩–৪টি গ্রামে গিয়ে মানুষের সমস্যা শুনলেন, সমাধানের রাস্তা বলে দিলেন তা অতীতে লক্ষ্য করিনি। মানুষ একদিকে যেমন খুশি, তেমনই পাহাড়ের মানুষের এত কাছে প্রশাসন পৌঁছে যাওয়ায় প্রশাসনের প্রতি মানুষের বিশ্বাস অনেক বেড়েছে।’‌
প্রসঙ্গত, জেলার ভারত–ভুটান সীমান্তে থাকা বক্সা পাহাড় বরাবরই ঐতিহাসিক বক্সা ফোর্টের জন্য বিখ্যাত। ২০১১ সালের পর এক দফা বক্সা ফোর্টের ভেতর রাজ্যের উদ্যান পালন বিভাগ সার্বিক সৌন্দর্যায়নের কাজ করেছিল। তবে এবার রাজ্য সরকার একসঙ্গে সাড়ে ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে বক্সা ফোর্টের সার্বিক সংস্কারে। জেলাশাসক বলেন, ‘‌বক্সা ফোর্টের সংস্কারের জন্য বরাদ্দ কাজের ডিপিআর ও টেন্ডার দুই–ই হয়ে গেছে। দ্রুত কাজ শুরু হবে। এ ছাড়াও বক্সা জুনিয়র হাই স্কুল, প্রাইমারি স্কুল, লেপচাখার থাকা প্রাইমারি স্কুলগুলোতে সংস্কারের কাজ হবে। বক্সা পাহাড়ের সামান্য কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বাকি আছে। তা দ্রুত শেষ হবে। পানীয় জল নিয়ে কিছু সমস্যার কথা শুনেছি। পিএইচই দ্রুত কাজ সম্পূর্ণ করবে। ভিউ পয়েন্ট থেকে ফোর্ট পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিমি রাস্তা নির্মাণ হবে। এর মধ্যে সান্তলাবাড়ি থেকে ভিউ পয়েন্ট পর্যন্ত রাস্তার কাজ শেষ হয়েছে।’‌
পূর্ত দপ্তরের আধিকারিকরা জেলাশাসকের সঙ্গেই গোটা সফরে ছিলেন। সান্তলাবাড়ি থেকে বক্সা ফোর্ট পর্যন্ত ৫ কিমি রাস্তায় খুব ছোট ছোট ৩–৪টি কংক্রিটের কালভার্ট তৈরি হবে বলে ঠিক হয়েছে। বক্সা সদর বাজারের বাসিন্দা ইন্দ্র থাপা বলেন, ‘‌ফোর্টের সংস্কার হলেও বাকি আড়াই কিমি রাস্তা দ্রুত তৈরি হলে বর্তমানের তুলনায় ১০ গুণ বেশি পর্যটক আসবেন পাহাড়ে।’‌ এদিন স্থানীয় ৪ জন হোম–স্টে মালিক প্রশাসনের কাছে আর্থিক সহযোগিতা চান। জানা গেছে, দেড় লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহযোগিতা পাবেন তঁারা। উল্লেখ্য, প্রতিটি গ্রামে জেলাশাসক পৃথক পৃথকভাবে বৈঠক করেন স্থানীয়দের সঙ্গে।

বক্সা পাহাড়ের বিভিন্ন গ্রামে জনসংযোগে জেলাশাসক সুরেন্দ্রকুমার মিনা  (‌সাদা টুপি ও গেঞ্জি পরিহিত)‌। ছবি: প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top