পার্থসারথি রায়, জলপাইগুড়ি: শূন্যে গুলি ছুঁড়ে, বাঁধনহারা উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে দেবীকে বিদায় জানানো হল জলপাইগুড়ির বৈকুন্ঠপুর রাজবাড়িতে। দেবীবরণকে কেন্দ্র করে নাচ–গান সহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শামিল হন শহরবাসী। বৈকুন্ঠপুর রাজবাড়িতে দেবী বিসর্জনের সময় রাজ পরিবারের কোনও সদস্যের উপস্থিত থাকার নিয়ম নেই। যদিও বিসর্জনের আগে শূন্যে গুলি ছোঁড়ার রেওয়াজটা পালন করেন রাজ পরিবারের সদস্যরাই। সেসময় রাজবাড়ি প্রাঙ্গনে উপস্থিত ছিলেন প্রায় তিরিশ হাজার মানুষ। প্রতিমা নিরঞ্জনের আগে পুঁটি মাছের ঝোল দিয়ে দেবীকে ভোগ নিবেদন করা হয়। এছাড়া দেবীকে বিদায় জানানোর আগে পান্তা ভাতের সঙ্গে ইলিশ মাছ ভাজা, ইলিশ মাছের মাথা দিয়ে কচু শাক, শাপলার তরকারি সহ বিভিন্ন রকমের পদ তৈরি করে সাজিয়ে দেওয়া হয় দেবীর ভোগে। 
রাজ পরিবারের সদস্য প্রণতকুমার বসু বলেন, ‘‌আগমনের পর দেবী স্বয়ং রাজ পরিবারের কন্যা হয়ে যান। তাই বিদায় বেলায় বিষন্নতার আবহ ফুটে ওঠে রাজবাড়ির সর্বত্র। ফের এক বছরের জন্য দেবীকে শ্বশুরবাড়িতে পাঠাতে গিয়ে মন ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে সকলের। এখান থেকে কৈলাশের পথ অনেক দূরে। তাই দেবীকে বিদায় জানানোর আগে বিভিন্ন রকমের পদ সহ ভোগ দেওয়া হয়।’‌ বিসর্জনের দিন সকাল থেকেই রাজবাড়ি প্রাঙ্গনে কয়েক হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। পুজো মণ্ডপের পেছনেই রয়েছে রাজবাড়ির বিশাল পুকুর। 
প্রতি বছর ওই পুকুরেই দেবীকে বিসর্জন দেওয়া হয়। এই দিনে রাজবাড়ি প্রাঙ্গনে তিল ধারনেরও জায়গা থাকে না। মন্দির থেকে পুকুরের দূরত্ব খুব বেশি হলে মাত্র ষাট মিটার। এটুকু পথ পাড়ি দিতেই প্রায় তিন ঘন্টা সময় পেরিয়ে যায়। দেবীকে বিদায় জানাতে গিয়ে দশমীর বিষাদের মধ্যেও কোথাও যেন আনন্দ ফুটে উঠে সকলের মধ্যে। দেবীকে মিষ্টিমুখ করিয়ে সকাল থেকেই সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন এলাকার মহিলারা। বৈকুন্ঠপুর রাজবাড়ির পুজো ৫১০ বছরের পুরনো। রাজ পুরোহিত শিবু ঘোষাল বলেন, ‘‌বিসর্জনের দিন শহরের প্রায় প্রতিটি পরিবার থেকেই অসংখ্য মানুষ এখানে চলে আসেন। এক অন্য উৎসবে মেতে ওঠেন তারা। বছরের পর বছর ধরে এমনটাই পরম্পরা বৈকুন্ঠপুর রাজবাড়িতে।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top