অলক সরকার, শিলিগুড়ি, ২৩ জুন

লকডাউন একদিকে যেমন গরিব মানুষের আশঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, অন্যদিকে বন ও বন্যপ্রাণের জন্য অমোঘ প্রাপ্তি হয়ে এসেছে। লকডাউনের জেরে দেশের অর্থনীতি ধাক্কা খাওয়ায় গরিব মানুষের অন্নসংস্থান এখন একটা লড়াই, অন্যদিকে লকডাউনে দূষণের মাত্রা কমে প্রায় শূন্য হওয়ায় পশুপাখিদের আনন্দের সীমা নেই। আর সে কারণেই গোটা উত্তরবঙ্গজুড়েই এবারে বাংলার পাখিদের আনাগোনা কয়েক গুণ বেড়েছে। এই সময় থেকে ধীরে ধীরে যখন উত্তর দিনাজপুর জেলার কুলিক পাখিরালয়, কোচবিহারের রসিকবিল, ডুয়ার্সের বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের আওতাধীন নারারথলি বিল, কিংবা গাজলডোবার মতো এলাকায় পরিযায়ীরা আসতে শুরু করে, সেখানে এখন স্থানীয় পাখিদের ভিড় চোখে পড়ার মতো। উত্তরের এই পাখিমুখর এলাকাগুলিতে পরিযায়ীদের পাশাপাশি পানকৌড়ি, টিয়া, চড়ুই, কোকিল, ধানি তুলিকা, জলময়ূর, বাজপাখি, নীলপুচ্ছ , বেনেবউদের মতো স্থানীয় পাখির ভিড় পরিবেশপ্রেমীদের মনে উচ্ছ্বাস ও আশা তৈরি করেছে। উত্তর দিনাজপুর জেলার পাখিরালয় ‘‌কুলিক’‌-‌এ এই সময় পর্যটকদের ভিড় থাকে। এবারে সেটা নেই। ফলে নিস্তব্ধ কুলিক পক্ষীনিবাসে পরিযায়ীরা অনেক আগে থেকেই এসে গেছে। কিন্তু কিছুদিন থেকে লক্ষ করা যাচ্ছে, স্রেফ পরিযায়ী নয়, সেখানে দেশীয় পাখিদের মেলা বসে গেছে। সামান্য হেরফের হলেও প্রায় একই ছবি কোচবিহারের রসিকবিল ও ডুয়ার্সের নারারথলি বিলে। শিলিগুড়ির খুব কাছে থাকা গাজলডোবাতেও ছবিটা আলাদা কিছু নয়। প্রায় সর্বত্র গাছে গাছে বাসা বেঁধেছে টিয়া, কাকাতুয়া, বেনেবউ থেকে আরও হরেক রকমের পাখি। জলাধারে দিনভর জলকেলি করে চলেছে ব্রোঞ্জ উইং জাকানা, জলময়ূর থেকে পানকৌড়ি। পরিবেশপ্রেমী সুদর্শন ব্রহ্মচারী জানান, এই ছবি শুধুই কুলিকের নয়, বাংলার সর্বত্র। লকডাউনের জেরে পরিবেশে দূষণের মাত্রা কমে যাওয়ায় পাখির প্রজনন বেড়েছে। সেইসঙ্গে মাঝে মাঝে বৃষ্টি হওয়ায় পোকামাকড় বাড়ায় পাখির খাবারের সমস্যাও নেই। ফলে জঙ্গল থেকে খেতখামার সর্বত্র পাখিদের অবাধ বিচরণ লক্ষ করা যাচ্ছে। রায়গঞ্জের তরুণ বার্ড-‌ফটোগ্রাফার ক্ষীরোদ সরকারের মতেও,‘‌লকডাউনের কারণে জঙ্গল লাগোয়া কুলিক নদীতেও দূষণের মাত্রা কমেছে, মাছ বেড়েছে, পাখিদের খাদ্যের অভাব মিটেছে।’‌ এতেই এখন পাখিদের কলরবে মুখরিত উত্তরবঙ্গ।

শাহ বুলবুলি। ছবি:‌ সংগৃহীত

জনপ্রিয়

Back To Top