অম্লানজ্যোতি ঘোষ, আলিপুরদুয়ার, ২০ জুন

শহিদ বিপুল রায়ের পরিবারের পাশে দাঁড়াল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী আগেই ঘোষণা করেছিলেন, লাদাখ সীমান্তে রাজ্যের যে দুই সেনা জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। সঙ্গে পরিবারের একজনকে চাকরি দেওয়া হবে। শনিবার জেলাশাসক সুরেন্দ্রকুমার মিনা, আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদের সভাধিপতি শিলা দাস সরকার, আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী, তৃণমূলের জেলা সভাপতি মৃদুল গোস্বামী বিন্দিপাড়া গ্রামে পৌঁছে যান। শহিদ বিপুল রায়ের বাড়িতে গিয়ে তাঁর বাবা নীরেন রায়ের হাতে ৫ লক্ষ টাকার চেক তুলে দিয়ে আসেন। 
উল্লেখ্য, লাদাখে আগ্রাসনকারী চীনা সেনাদের সঙ্গে লড়াইয়ে গত সোমবার রাতে মৃত্যু হয় বিপুল রায়ের। শুক্রবার দেহ আসে বিন্দিপাড়ায়। বায়ুসেনা, স্থলসেনা, জেলা পুলিসের তরফে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গান স্যালুট দিয়ে শহিদকে বিদায় জানানো হয়। বহু মানুষের জমায়েত হয় বিন্দিপাড়া গ্রামে। আগেই জেলা পরিষদের সভাধিপতি শিলা দাস সরকার ও মেন্টর মোহন শর্মা জানিয়েছিলেন, বিপুলের নামে রাস্তার নামকরণ, এলাকায় শহিদবেদি স্থাপন করা হবে। বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী ঘোষণা করেন, জেলা সদরে প্যারেড গ্রাউন্ডে শহিদ স্মরণে বেদি হবে। বিপুলের বাবা–মায়ের চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়া হবে। সৌরভ গত তিন দিনে বেশ কয়েকবার বিন্দিপাড়া গ্রামে গেছেন। শনিবারও দু’‌বার যান। বিপুল রায়ের ৫ বছরের শিশুকন্যা তমান্নাকে কাছে ডেকে প্রশ্ন করেন, ‘‌তোমার বাবা কোথায়?’‌ ছোট্ট তামান্নার উত্তর ছিল, ‘‌বাবা আর আসবে না। ভগবানের কাছে চলে গেছে।’‌ কথাটি শুনে কাছে থাকা অনেকেই কেঁদে ফেলেন। পরে সৌরভ বলেন, ‘ছাইচাপা আগুন পুষে রেখেছেন মানুষ। তবে আলিপুরদুয়ার যেন কোনওদিন বিপুল রায়কে ভুলে না যায়, সেজন্য আমরা পদক্ষেপ করছি। খুব দ্রুত একটি কমিটি গঠন করা হবে। প্যারেড গ্রাউন্ডে বিপুল রায়ের মুর্তি বসবে। রাজ্য সরকার তাঁদের পরিবারের একজনকে চাকরি দেবে। কে চাকরি করবেন, তা পরিবারের তরফে জানানো হলেই দ্রুত পদক্ষেপ করা হবে।’

বিপুল রায়ের বাবা নীরেন রায়ের হাতে চেক তুলে দিচ্ছেন সভাধিপতি শীলা দাস সরকার, জেলাশাসক সুরেন্দ্রকুমার মিনা, সৌরভ চক্রবর্তী। ছবি:‌ প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top