পার্থসারথি রায়‌, জলপাইগুড়ি, ৪ নভেম্বর- পরিচ্ছন্নতা ও জীবাণুমুক্ত পরিবেশের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের সুশ্রী কায়াকল্প পুরস্কার পেল জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতাল। চলতি বছরে রাজ্যের সেরা হাসপাতালের শিরোপার জন্য জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। দিল্লিতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী ডঃ হর্ষবর্ধন এই পুরস্কার তুলে দিয়েছেন জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালের সুপার ডাঃ গয়ারাম নস্করের হাতে। বিষয়টি নিয়ে খুশির হাওয়া জলপাইগুড়ি জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরে। খুশি চিকিৎসক, নার্স থেকে শুরু করে সমস্ত স্বাস্থ্যকর্মীরা। এই আনন্দ সকলের মধ্যে ভাগ করে নিতে আগামী ৬ নভেম্বর একটি বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে জলপাইগুড়ি জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর। উল্লেখ্য, ভাল স্বাস্থ্য পরিষেবার জন্য চলতি বছর রাজ্য সেরার পুরস্কার পেয়েছে জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতাল। প্রথম পুরস্কার হিসেবে পেয়েছে ৫০ লক্ষ টাকা। বিভিন্ন বিভাগে ৫০০–‌র মধ্যে মোট ৪৭৬ নম্বর‌‌ পেয়ে জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতাল সেরা হয়েছে। জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালের এই সাফল্যে দারুণ উচ্ছসিত আইএমএ–‌র সম্পাদক ডাঃ সুশান্ত রায়। বলেন, ‘‌এই হাসপাতালের ৮৪ বছরের ইতিহাসে একটা নতুন পালক যোগ হল। এই সাফল্যের জন্য আমাদের দায়িত্ব এখন আরও বেড়ে গেল। ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মিলিত প্রচেষ্টায় এমনটা সম্ভব হয়েছে। জেলা হাসপাতালের পরিচ্ছন্ন স্বাস্থ্য পরিষেবায় রাজ্যের মধ্যে প্রথম হতে পেরে আমরা খুবই গর্বিত।‌ আগামী ১৪ থেকে ১৬ নভেম্বর জলপাইগুড়িতে এসে জেলা হাসপাতাল পরিদর্শন করবেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রতিনিধিরা। বিভিন্ন বিভাগ খতিয়ে দেখবেন তাঁরা। জাতীয় পর্যায়ের র‌্যাঙ্কিংয়েও যাতে আমরা ভাল জায়গায় থাকতে পারি সেদিকেই এখন লক্ষ্য রয়েছে আমাদের।’‌ জলপাইগুড়ি জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ জগন্নাথ সরকার বলেন, ‘‌পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা–সহ স্বাস্থ্য পরিষেবা মিলিয়ে বিভিন্ন বিভাগে পয়েন্ট দেওয়া হয়। সেরা হাসপাতালের জন্য বিভিন্ন বিভাগে ৫০০–র মধ্যে আমরা মোট ৪৭৬ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছি। প্রথম পুরস্কার হিসেবে পাওয়া ৫০ লক্ষ টাকা হাসপাতালের পরিষেবা ও উন্নয়নেই খরচ করা হচ্ছে।
জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ জগন্নাথ সরকার বলেন, ‘‌জেলা হাসপাতালে এখনও পর্যাপ্ত ডাক্তার রয়েছেন। নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মীর সংখ্যাও এখন অনেক বেড়েছে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও পরিষেবা সমস্ত দিকেই এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি আমরা। সবদিক মিলিয়ে আমরা যেভাবে কাজ করছি, তাতে এই র‌্যাঙ্কই আশা করেছিলাম। আমাদের জেলা হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলো প্রতিদিন তিনবার করে পরিষ্কার করা হয়। কোনও বেসরকারি নার্সিংহোমেও এমনটা হয় না।’‌ জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ জগন্নাথ সরকার বলেন, ‘‌জেলা হাসপাতালে এই মূহূর্তে প্রায় ৫০ জন চিকিৎসক রয়েছেন। নার্স রয়েছেন ৩০০ জনের বেশি। এছাড়া শতাধিক সুইপার ও গ্রুপ ডি স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। আগামীদিনে যাতে আর দ্বিতীয় না হই, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা একত্রিতভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ইতিমধ্যেই ডায়ালিসিস ইউনিট চালু করা হয়েছে এই হাসপাতালে। এছাড়া সিসি ইউনিট বেডের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ মিলিয়ে প্রায় ১২০০ বেড রয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করি আমরা। প্রথম স্থানের দিকে এগিয়ে চলার ক্ষেত্রে এধরণের প্রশিক্ষণ খুবই কার্যকরী ভূমিকা পালন করেছে। গত কয়েক বছরে নবজাতক শিশু ও প্রসূতি মায়েদের মৃত্যুর সংখ্যাও অনেক কমেছে। রাজ্যে এই মৃত্যুর সংখ্যা রয়েছে ২৭ শতাংশ। সারা দেশের ক্ষেত্রে এই সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে ৩১ শতাংশ। সেখানে আমাদের জলপাইগুড়ি জেলায় নবজাতক শিশু ও প্রসূতি মায়েদের মৃত্যুর সংখ্যা মাত্র ২৩ শতাংশ। দেশের সেরা হাসপাতালের জন্য এবার প্রস্তুতি নিচ্ছি আমরা।‌ এই পুরস্কার পেলে জেলা হাসপাতালের প্রতিটি বেডের জন্য পাঁচ হাজার টাকা করে দেবে কেন্দ্রীয় সরকার। আগামী তিন বছর ধরে দেওয়া হবে এই অর্থ। সব মিলিয়ে কেন্দ্র থেকে তিন কোটি টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।

জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতাল। ছবি:‌ প্রতিবেদক
 

জনপ্রিয়

Back To Top