পঙ্কজ সরকার, মালদা, ৫ জুন- বলিউড অভিনেতা সোনু সুদের পথে এবার মালদার সফিকুল ইসলাম। বেঙ্গালুরুতে আটকে–থাকা নার্সিং পড়ুয়াদের ফিরিয়ে দিলেন তাঁদের পরিবারের কাছে। শুধু এই জেলারই নয়, এই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের ২০ জনকে নিজের খরচে বিমানে করে দমদম এয়ারপোর্টে নিয়ে আসেন সফিকুল। নিজে দাঁড়িয়ে থেকে পড়ুয়াদের স্বাগত জানান তিনি। পরে সেখান থেকেও প্রত্যেককে নিজের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। 
লকডাউনের শুরু থেকে অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন কালিয়াচক–২ ব্লকের বিদ্যুৎ কর্মাধ্যক্ষ সফিকুল ইসলাম। ত্রাণ দেওয়া থেকে শুরু করে বিনাপয়সার হাট বসানো, নানা উদ্যোগ ইতিমধ্যেই তিনি নিয়েছেন। সম্প্রতি খবর আসে, মালদার কয়েকজন পড়ুয়া বেঙ্গালুরুর বিএসসি নার্সিং কলেজের ছাত্রাবাসে আটকে রয়েছেন। কলেজ লকডাউনের শুরুতেই ছুটি হয়ে যায়। এই রাজ্যের অনেকেই আটকে ছিলেন সেখানে। পড়ুয়ারাই সফিকুলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি প্রথমে মালদার ৯ জনকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে উদ্যোগ নেন। তাঁদের বিমানের টিকিট পাঠিয়ে দেন। মালদার পড়ুয়াদের দেখাদেখি অন্যান্য জেলার পড়ুয়ারাও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করলে একসঙ্গে তাঁদেরও ফিরিয়ে আনেন তিনি। মালদার ৯ জন ছাড়া বাকি ১১ জন মুর্শিদাবাদ, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসিন্দা। মালাদার পড়ুয়াদের মধ্যে মঙ্গলবাড়ির ঝিলিক মণ্ডল, শহরের ঘোড়াপিরের সৌমী বর্মন, কালিয়াচকের সাবানা ফারিনরা জানান, ‌ওঁর কথা আমরা ফেসবুকে জানতে পারি। তারপর ওঁর সঙ্গে যোগাযোগ করি। উনি আমাদের ফেরাতে রাজিও হয়ে যান। আমাদের একটিও পয়সা খরচ করতে হল না। প্রায় আড়াই মাস পর আমরা বাড়িতে পৌঁছোতে পারছি।‌ 
সফিকুল বলেন, ‘‌টাকাটা বড় বিষয় নয়। ওই পড়ুয়াদের বাড়িতে পৌঁছে দিতে পেরেছি, ওদের মুখে হাসি ফোটাতে পেরেছি, এর থেকে অনাবিল আনন্দ আর কী হতে পারে!‌’‌ বৃহস্পতিবার সকালে বেঙ্গালুরু থেকে বিমান দমদম এয়ারপোর্টে পৌঁছোয়। সফিকুল নিজে হাজির থেকে পড়ুয়াদের সকলকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। মালদার পড়ুয়ারা গভীর রাতে বাড়িতে এসে পৌঁছোয়। খুশি পরিবারের লোকেরাও।

দমদম বিমানবন্দরে ফিরে আসা পড়ুয়ারা। ছবি:‌ সংগৃহীত

জনপ্রিয়

Back To Top