অম্লানজ্যোতি ঘোষ,আলিপুরদুয়ার: দেশের সেরা স্নিফার–কাম–ট্র‌্যাকার ডগের শিরোপা পেল রাজাভাতখাওয়ার ‘‌করিম’‌। দেশের সব ক’‌টি ওয়াইল্ডলাইফ স্কোয়াডের ৬৫টি স্নিফার ডগের গত এক বছরের কাজের তুল্যমূল্য বিচার করা হয়েছিল। সব দিক খতিয়ে দেখে ‘‌বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে কর্মরত’ করিমকেই বেছে নেওয়া হয়েছে। বক্সা ওয়েস্ট ডিভিশনের ভেতর শুধু বন দপ্তরের হয়ে দায়িত্ব পালন করাই নয়, আলিপুরদুয়ার জেলা পুলিশকেও বিভিন্ন কাজে সাহায্য করেছে করিম। বেলজিয়াম মেলোনিয়াস প্রজাতির শেফার্ড করিমকে আর সাধারণ ‘‌ট্র‌্যাকার ডগ’‌ হিসেবে দেখতে রাজি নন তার দুই প্রধান হ্যান্ডলার শুভেন্দুবিকাশ সরকার ও জনি শর্মা। তাঁদের কথায়, করিম একরকম গোয়েন্দা। যে শুধুমাত্র গন্ধ শুঁকেই সমতল হোক বা বক্সা পাহাড়ের দুর্গম আদমা গ্রামে পৌঁছে যায়। বক্সায় করিম আছে, এটা জেনে গত দু’‌বছরে জঙ্গলে অপকর্ম অনেকটাই কমে গেছে। জঙ্গলে চোরাশিকার করার আগে দুষ্কৃতীরাও দু’‌বার ভাবছে। ভয়ে পিছিয়ে যাচ্ছে। 
বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের ফিল্ড ডিরেক্টর শুভঙ্কর সেনগুপ্ত বলেন, ‘‌আমরা সবাই করিমকে নিয়ে গর্ব করতে পারি। দু’‌বছরে ওর সাফল্য প্রায় একশো শতাংশ।’‌ করিম যে ভুল করতে পারে না তা দু’‌বছরেই প্রমাণিত। একটি–দু‌টি নয়, অন্তত ৩০টি বিভিন্ন ঘটনার তদন্তে প্রকৃত দুষ্কৃতীকে চিহ্নিত করে দিয়েছে করিম। কখনও সরাসরি দুষ্কৃতীদের, কখনও দুষ্কৃতীর বাড়ি। তা ৪ হাজার ফুট উঁচুতে পাহাড়ের মাথায় হোক বা বনবস্তির ভেতর। ২০১৭ সালের ২১ নভেম্বর মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়র চৈকানপুরে বিএসএফের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে টানা ১০ মাসের প্রশিক্ষণ শেষ করে বক্সায় আসে করিম। জানা গেছে, দিনে প্রাপ্য স্বাভাবিক খাবার খেয়ে প্রতিদিন দুই হ্যান্ডলারের কাছে টানা তিন ঘণ্টা প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করিমের। শরীরে যেন মেদ না জমে, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হয়। করিম জাতীয় সেরার মর্যাদা পাওয়ায় তার প্রশংসা করেছেন জেলা পুলিশ সুপার নগেন্দ্রনাথ ত্রিপাঠীও। বনমন্ত্রী ব্রাত্য বসুও এদিন প্রশংসা করেন করিমের।

করিম। ছবি:‌ প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top