অভিজিৎ চৌধুরি, মালদা, ২৭ জানুয়ারি- সংসারের ব্যয় ভার নিজের কাঁধে তুলে নিতে শুরু করেছিলেন প্রতিমা তৈরির কাজ করে। ৩০ বছর পেরিয়ে গেছে। তার পরেও প্রতিমা গড়ার কাজ ছাড়েননি ৫০ বছরের মহিলা মৃৎশিল্পী সীমা দাস। দু’‌দিন বাদে বাগ্‌দেবীর আরাধনা। তাই এখন নাওয়া–‌খাওয়া ভুলে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সীমাদেবী। জোরকদমে চলছে কাজ। এবারে তিনি ২৫টি সরস্বতী প্রতিমা নিজের হাতে তৈরি করছেন। এই কাজে সীমাদেবীকে সহযোগিতা করছেন তাঁর দুই ছেলে ও স্বামী। স্বামী প্রকাশকুমার দাস বেশ কিছু প্রতিমা তৈরি করেছেন। সীমাদেবীর এই লড়াইকে কুর্নিশ জানাতে তঁাকে বিশেষভাবে সম্মানিত করার কথা ভাবছে পুরাতন মালদা পুরসভা।
পুরাতন মালদা পুরসভার কাঞ্চনজঙ্ঘা এলাকার বাসিন্দা মৃৎশিল্পী সীমা দাস (৫০)। পরিবারে তাঁর স্বামী ছাড়াও রয়েছেন সাবালক দুই ছেলে সোনাই এবং সোমনাথ দাস। পরিবারটি বংশ পরম্পরায় বহুদিন ধরেই প্রতিমা তৈরির কাজ করে আসছে। এলাকার বিভিন্ন ক্লাব ও স্কুলের যে চাহিদা থাকে, তাতে প্রতিমার বরাত পেয়ে খুশি ওই মহিলা মৃৎশিল্পী। তাঁর বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সকলের জন্য কাজ করছেন। আমাদের মতো মহিলা শিল্পীদের নিয়ে যেন তিনি ভাবেন।
নিজের বাড়িতেই ছোট থেকে বড় সব ধরনের সরস্বতী প্রতিমা তৈরি করেছেন মৃৎশিল্পী সীমা দাস। এই মুহূর্তে নাওয়া–‌খাওয়ার সময় নেই। মঙ্গলবার বিকেল থেকেই প্রতিমা নিতে চলে আসবেন বিভিন্ন ক্লাব ও স্কুল কর্তৃপক্ষ। তাই এখন রঙের প্রলেপ দেওয়া, আর প্রতিমার সাজসজ্জা নিয়ে ব্যস্ত সীমাদেবী।
জানালেন, ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা দামের সমস্ত রকমের সরস্বতী প্রতিমা তৈরি করেছেন। ভালই চাহিদা রয়েছে। তবে শুধু সরস্বতী নয়, দুর্গা, কালী, গণেশ, কার্তিক, মনসা–‌সহ বিভিন্ন ধরনের দেবদেবীর প্রতিমা তৈরি করেন সীমাদেবী। কিন্তু বর্তমানে যেভাবে বাঁশ, রং, মাটি এবং প্রতিমার দাম বেড়েছে। সেই তুলনায় প্রতিমা তৈরি করে লাভ কম হচ্ছে বলে আক্ষেপ তঁার। বিয়ের পর স্বামীর হাত ধরে কাজ শিখেছিলেন, এখন নিজেই প্রতিষ্ঠিত। তবে সেই থেকে নেশা ও পেশা হয়ে গেছে প্রতিমা তৈরি। যতদিন বাঁচবেন এই ভাবেই চালিয়ে যাবেন প্রতিমা তৈরির কাজ।‌‌

সরস্বতীর মূর্তির পরিচর্যায় সীমা দাস। ছবি:‌ প্রতিবেদক
 

জনপ্রিয়

Back To Top