অর্ঘ্য দে, শিলিগুড়ি, ১৯ আগস্ট- গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে শিলিগুড়ির গোয়ালটুলি মোড় থেকে প্রায় দশ কেজি সোনা–সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করল কেন্দ্রীয় রাজস্ব গোয়েন্দা দপ্তরের আধিকারিকেরা। ঘটনায় একটি গাড়িও আটক করা হয়েছে। ধৃতরা হল যমুয়ান কিমা (২৪), এইচ রুয়ালসাংপুঁইয়া (২০) এবং লালনেইহলিয়া (৩৫)। ধৃতদের প্রত্যেকেই মিজোরামের বাসিন্দা।
কেন্দ্রীয় রাজস্ব গোয়েন্দা দপ্তরের আইনজীবী ত্রিদিব সাহা জানান, রবিবার রাতে ধৃতরা একটি গাড়ির ছাদে হুডের মধ্যে সোনা নিয়ে কলকাতার উদ্দেশে যাচ্ছিল। ইন্দো–মায়ানমার বর্ডার থেকে এই সোনা নিয়ে আনা হচ্ছিল। মায়ানমার সীমান্তেই এই সোনা গাড়িতে লোড করা হয়েছিল। গাড়ির হুড থেকে ৬০টি সোনার বাট উদ্ধার হয়েছে। প্রতিটি সোনার বাটের ওজন ১৬৬ গ্রাম এবং এই সোনার মূল্য ৩ কোটি ৮৭ লক্ষ টাকা। ধৃতদের সোমবার শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে তোলা হয়। তাদের জেলা হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ধৃতরা মূলত বাহক মাত্র। মূল পাণ্ডা ডিআরআই–এর নাগালের বাইরে। দিন কয়েক আগেই কলকাতায় সোনা পাচার করতে গিয়ে ধরা পড়েছিল ৪ জন। সেবার ৩৬টি সোনার বিস্কুট উদ্ধার করেছিল ডিআরআই। উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি হয়ে সোনা পাচারের ঘটনা নতুন নয়। অতীতেও বহুবার শিলিগুড়িকে করিডোর করে পাচারকারীরা সোনা পাচারের ছক কষেছে বহুবার। মায়ানমার সীমান্ত দিয়েই এদেশে পাচার হওয়া সোনা ঢুকছে। সেটা কখনও জয়গাঁ হয়ে আবার নেপাল সীমান্ত দিয়ে চীনে চলে যাচ্ছে। আবার কলকাতায় পাঠানো হচ্ছে। এই রুট দিয়েই সাধারণত পাচারকারীরা সোনা পাচার করে থাকে। চলতি বছরেই জানুয়ারি মাসে সোনা পাচার করতে গিয়ে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বাগডোগরা কাস্টমস্‌–এর অফিসাররা ওই ব্যক্তিকে জেরা করে তার মলদ্বার থেকে ৬টি সোনার বিস্কুট উদ্ধার করেছিল। 

উদ্ধার হওয়া সোনা। ছবি:‌ শৌভিক দাস‌
 

জনপ্রিয়

Back To Top