অভিজিৎ চৌধুরি,মালদা: হবিবপুর বিধানসভার উপনির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী হতে চলেছেন অমল কিস্কু। ২০১৬ সালের বিধানসভা এলাকার দাপুটে এই আদিবাসী নেতার ওপরই ভরসা রাখছে তৃণমূল। গত বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএম প্রার্থী খগেন মুর্মুর কাছে ২,৫১২ ভোটে পরাজিত হন তৃণমূল প্রার্থী অমল কিস্কু। বলাবাহুল্য, ২০১৬ সালে কংগ্রেস ও বামেদের জোটের কারণে মালদা জেলায় বিধানসভার ১২টি আসনের মধ্যে একটিও পায়নি তৃণমূল। হেরে যান দুই মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু্ চৌধুরি এবং সাবিত্রী মিত্র। ফলে মালদা জেলা এখন মন্ত্রীহীন। এবার অমল কিস্কু জয়ী হলে মন্ত্রী হতে পারেন বলেও তৃণমূল শিবিরের আশা। 
তৃণমূলের জেলা সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘‌হবিবপুরে অমল কিস্কুকে জেতাতে পারলে মালদা জেলা একজন মন্ত্রী পাবে। আমাদের এখন একটাই লক্ষ্য, হবিবপুরে উপনির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থীকে জয়ী করা।’‌ হবিবপুরে উপনির্বাচন হবে ১৯ মে। ২২ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে মনোনয়ন। ২৯ এপ্রিল মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিন। তৃণমূল জেলা সভাপতি জানিয়েছেন, ‘‌২৯ এপ্রিল দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেবেন।’‌ অন্যদিকে, সিপিএম এখানে প্রার্থী করতে চলেছে প্রাক্তন বিধায়ক সাধু টুডুকে। গাজোল বিধানসভা কেন্দ্রে একসময় বাম বিধায়ক ছিলেন সাধু টুডু। তিনিও ২৯ এপ্রিল মনোনয়ন জমা দেবেন। ২০১৬ সালে কংগ্রেসের সমর্থনে এই আসনটিতে জয়ী হয় সিপিএম। বিধায়ক ছিলেন খগেন মুর্মু। তিনি বিজেপি–তে যোগ দিয়ে লোকসভার মালদা উত্তর আসনে প্রার্থী হওয়ায় পুনর্নির্বাচন হচ্ছে। কংগ্রেস প্রার্থী না–‌ও দিতে পারে। মালদা দক্ষিণ আসনে প্রার্থী দেয়নি সিপিএম। সূত্রের দাবি, বাম ভোট পড়েছে আবু হাসেম খান চৌধুরির দিকেই। তাই পাল্টা সৌজন্য দেখাতে পারে কংগ্রেসও। তবে একান্তই প্রার্থী দিলে লড়াই করবেন রেজিনা মুর্মু। 
প্রার্থী নিয়ে বেশ দ্বিধায় বিজেপি। দলের জেলা সভাপতি সঞ্জিত মিশ্র জানিয়েছেন, ‘‌তিনজনের নাম রাজ্য কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবারের মধ্যে চূড়ান্ত হয়ে যাবে।’‌ দলীয় সূত্রে জানা গেছে, যে তিনজনের নাম পাঠানো হয়েছে, তাঁরা হলেন মন্টু হাঁসদা, রামলাল হাঁসদা এবং জুয়েল মুর্মু। এর মধ্যে মালদা জেলা পরিষদের বিরোধী দলনেতা জুয়েল মুর্মু। একটি সূত্রের দাবি, প্রয়োজনে বাইরে থেকেও প্রার্থী করা হতে পারে। 

জনপ্রিয়

Back To Top