রাজীব চক্রবর্তী, দিল্লি, ২ ডিসেম্বর- নারী সুরক্ষায় আরও কড়া আইনের দাবি উঠল সংসদে। ধর্ষণের ঘটনা রুখতে দলমত নির্বিশেষে একজোট সব দল। কেউ বললেন, দীর্ঘসূত্রতার সুযোগ নেয় অভিযুক্তরা। তাই বিচার শেষ হোক ৬‌ মাসের মধ্যে। ‌তার জন্য গড়া হোক ফাস্ট ট্র‌্যাক কোর্ট। কারও দাবি, মৃত্যুদণ্ডই একমাত্র সাজা। অভিনেত্রী সাংসদ জয়া বচ্চনের দাবি, অন্য দেশে এমন অপরাধীদের জনতার হাতে তুলে দেওয়া হয়। এদেশেও ধর্ষকদের গণপিটুনি দিয়ে মারা হোক। সরকারের তরফে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, ‘‌হায়দরাবাদে যা ঘটেছে, তাকে ভর্ৎসনা জানানোর ভাষা নেই। এর চেয়ে অমানবিক আর কিছু হতে পারে না। দোষীদের কঠোরতম শাস্তির জন্য যে কোনও রকমের ব্যবস্থা নিতে আপত্তি নেই সরকারের। প্রয়োজনে আইন সংশোধন নিয়ে আলোচনা হোক।’‌ আলোচনা শেষে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা জানিয়েছেন, ‘‌আইন সংশোধনের প্রয়োজন নিয়ে আলোচনা করা হতে পারে।’‌
তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায় বলেছেন, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় কোনও মহিলা পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ তাঁর অভিযোগ নিতে অস্বীকার করে। যা আসলে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অবমাননা করা। শান্তনু সেন বলেছেন, আইন প্রণয়ন করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। ফার্স্ট ট্র্যাক কোর্ট গড়ে ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। এদিন লোকসভায় হায়দরাবাদ ইস্যুতে মুলতুবি প্রস্তাব এনেছিলেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। ঘটনা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি ২০১২–র ১৬ ডিসেম্বরের নির্ভয়া–কাণ্ডের কথা স্মরণ করিয়েছেন। বলেছেন, ‘‌নির্ভয়া–কাণ্ডের পর সংসদে এমনই আলোচনা হয়েছে। আইন সংশোধনের জন্য বিচারপতি জে এস বর্মার নেতৃত্বে কমিশন গড়া হয়েছিল। এখন সময় এসেছে এই ধরনের অপরাধে শুধুমাত্র মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি বিধান করে আইন আনার।’‌
কংগ্রেসের তরফে তেলেঙ্গানার সাংসদ উত্তমকুমার রেড্ডি বলেন, যে এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি হাই সিকিউরিটি জোন। রাজ্য পুলিশ নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ নিতে অস্বীকার করেছে। রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতে হয়েছে তাঁদের। এত কিছুর পরেও রাজ্যের পুলিশমন্ত্রী (‌মহম্মদ মাহমুদ)‌ সংবেদনহীন মন্তব্য করেছেন। যা দুঃখজনক। ঘটনার জন্য রাজ্যে অবৈধ মদের কারবারকেও দায়ী করেছেন তিনি। বিজেডি–র পক্ষে পিনাকী মিশ্র সওয়াল করেছেন দ্রুত মামলার নিষ্পত্তির দাবিতে। তাঁর দাবি, গোটা দেশে ৬ মাসের মধ্যে ধর্ষণের ঘটনার বিচার শেষ করা হোক। অবিলম্বে ফাস্ট ট্র‌্যাক আদালত গড়া হোক। ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত নির্ভয়ার ধর্ষকদের নিয়ে তিহার জেল কর্তৃপক্ষ কার্যত অন্ধকারে রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
ওদিকে, রাজ্যসভায় সমাজবাদী পার্টি সাংসদ জয়া বচ্চন বলেছেন, হায়দরাবাদে যেখানে এই ঘটনা ঘটেছে, ক’‌দিন আগেই সেখানে একইরকম ঘটনা ঘটেছিল। স্থানীয় নিরাপত্তারক্ষীদের লজ্জিত হওয়া উচিত। তাঁদের নাম প্রকাশ করে জবাবদিহি চাওয়া উচিত। অন্য দেশে এমন ঘটনায় জনতার হাতে অভিযুক্তদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তাঁর পরামর্শ, ভারতেও দোষীদের জনতার হাতে তুলে দিয়ে তাদেরও গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা উচিত। কংগ্রেস নেত্রী অ্যামি ইয়াগনিক ও এডিএমকে নেত্রী বিজিলা সত্যনাথ গোটা দেশে মহিলাদের ওপর অত্যাচারের ঘটনা বাড়তে থাকার তীব্র নিন্দা করেছেন। তাঁদের কথায়, ‘‌এই দেশ শিশু ও নারীর জন্য আর নিরাপদ নয়!‌’ তাঁদের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে ভবনার সময় এসেছে। ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে হায়দরাবাদের ৪ জন অপরাধীর ফাঁসির সাজা চাই। এ জন্য ফাস্ট ট্র‌্যাক আদালত তৈরি করা হোক। 
এখন দেখার, নরেন্দ্র মোদি সরকার সত্যিই দেশে ধর্ষণ রুখতে আইন সংশোধনের পথে হাঁটে কি না।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top