আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ এক সময় রাহুল গান্ধীর ছায়াসঙ্গি ছিলেন তিনি। ২০১৪ বা ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে বহু প্রচারসভায় রাহুলের পাশে থাকতেন তিনি। কংগ্রেসের হয়ে একের পর এক তোপ দাগতেন মোদির দিকে। আজ সেই শচীন পাইলটই দল ছেড়ে বিজেপি–তে যোগ দিচ্ছেন বলে জল্পনা। অথচ একদা ডানহাতের সঙ্গে একটিবার কথাও বলেননি রাহুল। একটিবার বৈঠকে বসেননি সোনিয়াও। 
শচীন পাইলট বহুবার সোনিয়া এবং রাহুলের সঙ্গে দেখা করার সময় চেয়েছেন। মেলেনি। মা–ছেলে দু’‌জনেই নীরব। কিন্তু কেন?‌ কথা বললে কি মিটত না সমস্য?‌ খবর, আর যাই হোক, রাজস্থানে মুখ্যমন্ত্রীর গদি নিয়ে কোনও আপোসে যেতে চায় না হাইকমান্ড। দেখা না করে এই বার্তাই দিলেন রাহুল–সোনিয়া। ঘনিষ্ঠদের মারফত নাকি সে খবর পাঠিয়েও দিয়েছেন শচীন পাইলটকে। 
২০১৮ সালে রাজস্থানে বসুন্ধরা রাজে সরকার ফেলে ক্ষমতায় আসে কংগ্রেস। তখন থেকে শচীনের পাখির চোখ মুখ্যমন্ত্রীর গদি। কিন্তু প্রবীণ অশোক গেহলটকেই মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসায় হাইকমান্ড। শচীনকে উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ সহ রাজ্যের পাঁচটি মন্ত্রক দেওয়া হয়। রাজ্য কংগ্রেসের প্রধান করা হয়। রাহুল নাকি তখনই স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, ভবিষ্যতে শচীনকেই মুখ্যমন্ত্রীর পদ দেওয়া হবে। কিন্তু এখন নয়। ৪২ বছরের শচীনের হাতে এখনও যথেষ্ট সময় রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রিত্বের জন্য তাড়াহুড়ো করে লাভ নেই। 
এই নির্দেশই আর মানতে চাইছেন না শচীন পাইলট। গত দু’‌বছরে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সমস্যা ক্রমেই বেড়েছে। হাইকমান্ড এই বিষয়ে কান দিতে নারাজ। এখন তিনি জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার পথে হেঁটেই সরকার ভাঙতে চাইছেন। খবর, মার্চ থেকেই বিজেপি–র সঙ্গে কথাবার্তা চলছে তাঁর। রাজস্থান কংগ্রেসের একাংশ মনে করেছিল, রাজ্যসভার ভোটেই খেল দেখাবেন পাইলট। বিজেপি–কে হয়তো জিতিয়ে দেবেন। কিন্তু তিনটির মধ্যে দু’‌টো রাজ্যসভা আসনই জিতেছে কংগ্রেস। 
এর পরেও বিজেপি এবং শচীন পাইলট লবির দিকে আঙুল তুলে সরকার ভাঙার অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী গেহলট। তদন্ত কমিটিও বসান। সেই কমিটি শচীন এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের জেরা করে। তাতেই ফের চটলেন রাজস্থানের উপমুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘‌এই বিষয়টি আমার অনুগামীদের কষ্ট দিয়েছে’‌। খবর, প্রতিশোধ নিতে জ্যোতিরাদিত্যর মতোই যে কোনও সময় বিজেপি–তে যোগ দিতে পারেন। উল্লেখ্য, কংগ্রেস ছাড়ার আগে জ্যোতিরাদিত্যও অভিযোগ করেন, গত এক বছর ধরে সোনিয়া–রাহুলের সঙ্গে দেখা করার জন্য সময় চেয়েছিলেন। পাননি। পরে রাহুল বলেন, ‘‌আমার বাড়িতে সবসময় যাঁদের জন্য দরজা খোলা থাকত, তাঁদের একজন জ্যোতিরাদিত্য’‌। গান্ধী ঘনিষ্ঠরা জানেন, এই তালিকায় নাম ছিল শচীনের। তাহলে এখন তিনিও কি জ্যোতিরাদিত্যর পথেই হাঁটবেন?‌

জনপ্রিয়

Back To Top