আজকালের প্রতিবেদন: ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচন। ময়দানে নেমে পড়েছে বিজেপি। ২৯  রাজ্য এবং ২ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ১৫০টি জেলায় প্রতিনিধি দল পাঠাচ্ছে বিজেপি। অন্যদিকে কৃষিকে অবহেলার প্রতিবাদে ২৩ ফেব্রুয়ারি হরিয়ানা থেকে দিল্লিগামী সমস্ত রাস্তা অবরোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় কিসান ইউনিয়ন। বিজেপি অবশ্য কিসান ইউনিয়নের এমন সিদ্ধান্তের পিছনে কংগ্রেসের হাত দেখতে পাচ্ছে। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কিসান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গুরনাম সিং চারুনি। রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে যুক্ত কৃষক সংগঠনগুলিও সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে।
সরকার কৃষিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বললেও কৃষি উৎপাদন কমছে এবং কৃষকদের আত্মহত্যার ঘটনা বাড়ছে।  সরকারের এই আশ্বাসে ভরসা নেই কৃষকদের। গুজরাট বিধানসভা এবং রাজস্থানের সাম্প্রতিক উপনির্বাচনে বিজেপি কৃষকদের সেই ক্ষোভের আঁচও পেয়েছে। তাই ২০১৮–১৯ সালের বাজেটে ফসলের সহায়ক মূল্য এবং কৃষি ঋণের বরাদ্দ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। কিন্তু সেটাই যথেষ্ট কিনা তা নিয়ে ঘোর সংশয় আছে সরকারের অভ্যন্তরেও। ক্ষোভের আঁচ কতখানি তা বুঝতেই বিজেপি জেলা স্তরে প্রতিনিধি দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতি প্রতিনিধি দলে তিনজন করে সদস্য থাকবেন। এই তিন সদস্যবিশিষ্ট প্রতিনিধি দল দেশের প্রতিটি রাজ্যের অন্তত তিনটি করে জেলায় যাবেন। রিপোর্ট দেবেন কৃষিমন্ত্রী রাধারমণ সিংয়ের কাছে। 
কিন্তু বিরোধীদের বক্তব্য, বাজেট ঘোষিত কোনও প্রস্তাবেই কৃষির সমস্যা মিটবে না। কারণ সরকার নিজেরাই সংশয়ে। সিপিএমের সঙ্গে যুক্ত সারা ভারত কিসান সভার সাধারণ সম্পাদক হান্নান মোল্লা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনায় কৃষকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বড়লোক করেছে বিমা সংস্থাগুলিকে। ১৮ হাজার কোটি টাকা তুলে কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দিয়েছে মাত্রই ৩ হাজার কোটি টাকা। এখন সহায়ক মূল্য বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। কিন্তু কেমনভাবে হিসেব করা হবে ফসল উৎপাদনের খরচ? সেই বিষয়ে সরকার স্পষ্ট করে কিছুই জানায়নি। যদি বর্তমান পদ্ধতিতেই এই হিসেব করা হয় তাহলে কৃষকদের কোনও সুবিধাই হবে না। আরও বেশি সংখ্যক কৃষক আত্মহননের পথ বেছে নিতে বাধ্য হবেন।’ 
হান্নান মোল্লার সুরেই সরকারের সমালোচনা করেছেন গুরনাম সিং চারুনি। তাঁর প্রশ্ন, ভোটের সময় স্বামীনাথন কমিটির সুপারিশ রূপায়ণের কথা বলেও কেন তা করেনি বিজেপি?‌ তাঁর কথায়, সহায়ক মূল্য পেতে সরকার এত বেশি শর্ত আরোপ করে যে অধিকাংশ কৃষকই বাজারের মূল্যের চেয়ে কম দামে তাঁদের ফসল বাজারে বিক্রি করতে বাধ্য হন। বিজেপি–‌র এই কৃষক বিরোধী নীতি যোগ্য জবাব আগামী লোকসভা নির্বাচনে দেওয়া হবে বলে তিনি 
হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

জনপ্রিয়

Back To Top