আজকালের প্রতিবেদন,দিল্লি: এই দীপাবলিতে দীপ জ্বলেনি লালকৃষ্ণ আদবানির বাড়ি। দিল্লির ৩০, পৃথ্বীরাজ রোডের সুবিশাল বাংলো ছিল নিষ্প্রদীপ। বন্ধু অটলবিহারী বাজপেয়ীর প্রয়াণে এবার আলোর উৎসব থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন নবতিপর বিজেপি–‌র প্রতিষ্ঠাতা সদস্য অধুনা মার্গ দর্শক। স্ত্রী কমলা প্রয়াত। আরও নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েছেন। নিজের হাতে গড়ে তোলা দলেও এখন কোণঠাসা। এতে দল ও সরকারকে নীরবে জোরালো এক বার্তাও দেওয়া হল। মোদির মত ও পথের সঙ্গে আদবানি একমত নন, চলতি পরিস্থিতিতে উৎসব থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে সেই গভীর বার্তাই দিয়েছেন। ৮ নভেম্বর ৯১তম জন্মদিন ছিল আদবানির। 
বাজপেয়ীর আকারের নেতার মৃত্যুর বছরে আনন্দ–‌উৎসব থেকে দলেরই সরে থাকার কথা। বিশেষত যে দল হিন্দু সংস্কৃতির কথা বলে। দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর থেকে তেমনই আচরণ আশা করেছিলেন দলের কর্মিবৃন্দ। তবে আচার–‌ আচরণে নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহরা বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, প্রবীণরা দলের কাছে নিছকই আলঙ্কারিক। এছাড়া দল বা সরকারের নানা কাজে ক্ষুণ্ণ আদবানি। কিন্তু প্রকাশ্যে বিরোধিতা নিজের হাতে তৈরি দলের ক্ষতি চান না। বিজেপি–‌‌র অন্দরের খবর, অসমের সাম্প্রতিক নৃশংসতা এবং বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ‍্যের গো–‌তাণ্ডবে যথেষ্টই ক্ষুব্ধ ও আহত আদবানি।
মার্গ দর্শকমণ্ডলীতে ঠেলে দিয়ে তাঁকে রাজনীতিতে গুরুত্বহীন করে দিলেও টুইটে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে কার্পণ্য করেনি বিজেপি নেতৃবৃন্দ। সর্বপ্রথম শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বাড়িতেও গেছেন। টুইট করেছেন, ‘‌দেশের উন্নয়নে আদবানিজির কৃতিত্ব উল্লেখযোগ্য। তাঁর মন্ত্রিত্বের মেয়াদ সুবিদিত ছিল ভবিষ্যৎমুখী সিদ্ধান্ত এবং জনমোহিনী নীতির কারণে। দলমত নির্বিশেষে তাঁর প্রজ্ঞাকে শ্রদ্ধা করেন সবাই।’‌ সভাপতি অমিত শাহ জানিয়েছেন,‘‌ আজীবন পরিশ্রম করে দলের সংগঠন মজবুত করেছেন। দলীয় কর্মীদের উদ্বুদ্ধ করেছেন। তৎকালীন জনসঙ্ঘ, পরে বিজেপি–‌‌র মতাদর্শকে জনগণের মধ্যে পৌঁছে দিয়েছেন। সংসদে তাঁর ভূমিকা, দেশের রাজনীতিতে তাঁর অবদান অসমান্তরাল।’‌ জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে আদবানির দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন কামনা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। 

 জন্মদিনে আদবানিকে শুভেচ্ছা মোদির। ছবি: পিটিআই

জনপ্রিয়

Back To Top