আজকাল ওয়েবডেস্ক: হিন্দুত্বের নামে কুৎসা রটানোর জন্য ‘‌হিন্দু সন্ত্রাস’‌ নাম দিয়ে শো করলে কিছু বলা হয় না কেন? সুদর্শন টিভির সম্পাদক সুরেশ চাভানকের প্রশ্ন শীর্ষ আদালতকে। এফিডেভিটে আক্রমণের আঙুল তোলা হল জাতীয় সংবাদমাধ্যম ‘‌এনডিটিভি’–এর দিকে। ‌
‘‌ইউপিএসসি জিহাদ‌’‌ মামলায় সুদর্শন টিভিকে কড়া ধমক দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। শো–এর প্রোমো সম্প্রচার হওয়ার পর থেকেই বিতর্ক শুরু হয় গোটা দেশে। প্রিভিউ ক্লিপে সুদর্শন টিভির দাবি ছিল, সরকারি চাকরিতে মুসলিমদের অনুপ্রবেশের বড়সড় ষড়যন্ত্র ফাঁস করা হয়েছে এই শো–তে। টুইটারে ভাইরাল হওয়া ওই ক্লিপে চ্যানেলের সম্পাদক সুরেশ চাভানকের অভিযোগ, সরকারি চাকরিতে জায়গা করে নেওয়ার জন্য পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় বেশি বেশি সংখ্যায় পাশ করানো হচ্ছে মুসলিমদের। এটা বড়সড় একটা ষড়যন্ত্র। মামলা সুপ্রিম কোর্টে গড়ায়। ১৮ সেপ্টেম্বর সেই মামলার শুনানিতে বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বধীন বেঞ্চ বলে, ‘‌শো সম্প্রচার করাই যেতে পারে। কিন্তু গোটা সম্প্রদায়ের ঘাড়ে দোষ চাপানো যাবে না। ওই সম্প্রদায়ের কেউ সিভিল সার্ভিসে ঢুকলেই আইসিস–এর প্রসঙ্গ টেনে আনা যাবে না। তাঁরা সরকারি চাকরিতে যুক্ত হলেই সেটাই ষড়যন্ত্র হিসেবে ধরে নেওয়াও একধরনের ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ। এক্ষেত্রে বাক্‌–স্বাধীনতার মোড়কে ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে। ওই সম্প্রদায়ের প্রতিটি মানুষকে নিশানা করতে পারেন না আপনারা। আর যদি কাউকে বাদও দেন, সেক্ষেত্রে বিভাজনের রাজনীতি স্পষ্ট হয়।’‌  
এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে সুদর্শন টিভির কর্তৃপক্ষ। শীর্ষ পাল্টা আক্রমণের জন্য পেশ করা হল একটি এফিডেভিট। যাতে বলা হল, ২০০৮ ও ২০১০ সালে সাংবাদিক বরখা দত্ত এনডিটিভি নিউজ চ্যানেলে ও দু’‌টি শো করেছিলেন। একটির নাম ছিল ‘‌হিন্দু টেরর:‌ মিথ অর ফ্যাক্ট?‌’ অর্থাৎ ‌হিন্দু সন্ত্রাস কি আদৌ একটি প্রচলিত ধারণা নাকি বাস্তব?‌ অন্যটি হল ‘‌ইজ স্যাফ্রন টেরর রিয়েল?‌’‌ অর্থাৎ গেরুয়া সন্ত্রাস‌‌ কি বাস্তবিক একটি বিষয়?‌ ‘‌সেখানে হিন্দুধর্মের পবিত্র চিহ্নগুলি দেখানো হয়েছে। যেমন ত্রিশুল, তিলক। নাম নেওয়া হয়েছে ভগবান শিবের। সেসব শো কি তবে সুপ্রিম কোর্টের চোখ এড়িয়ে গিয়েছে?‌’‌

জনপ্রিয়

Back To Top