সংবাদ সংস্থা, দিল্লি: সারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে ২০ থেকে ৩০ হাজার ভেন্টিলেটর। হয় সেগুলির একাধিক যন্ত্রাংশ নেই। কিংবা আদৌ সার্ভিসিং করানো হয়নি। সম্প্রতি উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে উঠে এসেছে এই তথ্য। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় মোট ১১টি বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন গোষ্ঠী গড়েছে কেন্দ্র। নীতি আয়োগের সিইও অমিতাভ কান্তের নেতৃত্বে বৈঠকে বসেছিল তেমনই একটি গোষ্ঠী। সেখানেই পাওয়া যায় ভেন্টিলেটর সংক্রান্ত এই তথ্য। বৈঠকে ছিলেন বণিকসভা সিআইআইয়ের প্রতিনিধিরা।
করোনা সংক্রমণের চিকিৎসায় ভেন্টিলেটর খুবই জরুরি। দরকার পার্সোনাল প্রোটেকটিভ ইকুইপমেন্ট বা পিপিই। বৈঠকে হাজির এক সরকারি প্রতিনিধি বলেন, ‘ঠিক হয়েছে যে, অকেজো ভেন্টিলেটরগুলি কোথায়, কী অবস্থায় রয়েছে, তা সিআইআইকে জানাবে নীতি আয়োগ। এর পর সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে কথা বলে সেগুলিকে ফের চালু করার ব্যবস্থা করা হবে।’ ভেন্টিলেটর নির্মাণকারী ও পরিষেবা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় রেখে সেগুলি সারানোর ব্যবস্থা করবে সিআইআই। তার আগে ভেন্টিলেটর সারানোর জন্য দরকারি যন্ত্রাংশের একটি তালিকা তৈরি করবে তারা। সিআইআই ডিরেক্টর চন্দ্রজিৎ ব্যানার্জি জানিয়েছেন, এদেশে ভেন্টিলেটর তৈরি করে যে সব ছোট সংস্থা, তাদের সঙ্গে বড় শিল্পসংস্থাগুলির সমন্বয় গড়ে তুলবে বণিকসভা। আরও বেশি ভেন্টিলেটর তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে। এজন্য প্রতিরক্ষা দপ্তরের কারখানা, গাড়ি নির্মাতা সংস্থা, বড় শিল্প সংস্থাকে চুক্তিতে ভেন্টিলেটর তৈরির বরাত দেওয়া হতে পারে। কেন্দ্র ইতিমধ্যেই ৫০ হাজার ভেন্টিলেটর তৈরির বরাত দিয়েছে। ভেন্টিলেটর চালানো এবং মেনটেন্যান্সের প্রযুক্তি শেখাতে তৈরি হবে অনলাইন ট্রেনিং মডিউল ও ওয়েবসাইট। এই কাজের দায়িত্ব পেয়েছেন মেদান্ত সংস্থার সিএমডি নরেশ ত্রেহান।
এদেশে পিপিই তৈরি করতে বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয় এমন উচ্চ প্রযুক্তির দুটি যন্ত্রের ওপর আমদানি শুল্ক ছাড়ের দাবি করেছে বণিকসভা। বৈঠকে বণিকসভার পক্ষে জানানো হয়, ২০ জুন পর্যন্ত এদেশে ১৬ লক্ষ টেস্টিং কিটের দরকার বলে যে হিসাব দেওয়া হয়েছে, তা ঠিক নয়। দরকার আরও বেশি। কিট তৈরির জন্য যন্ত্রাংশ আমদানির সমস্যা নিেয়ও ফিকি ও ন্যাসকমের সঙ্গেও বৈঠক করে এই গোষ্ঠী। নীতি আয়োগের টুইটারে জানানো হয়, স্বল্পকালীন মেয়াদে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত জিনিসপত্র সরবরাহের সমস্যা নিয়ে সরকার তৎপর।

জনপ্রিয়

Back To Top