আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ তিন দিন ঠায় দাঁড়িয়ে স্টেশনে। জায়গা হয়নি শ্রমিক স্পেশালে। বাধ্য হয়ে ব্যাঙ্কে জমানো লক্ষাধিক টাকা খরচ করে একটি গাড়ি কিনে বাড়ি ফিরলেন লাল্লান। উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরের কাইথোলিয়া গ্রাম থেকে দিল্লির গাজিয়াবাদে এনসিআর কলোনিতে কাজ করতে গিয়েছিলেন তিনি। বাড়ি বাড়ি রং করার কাজ করতেন সেখানে। লকডাউন রাতারাতি কাজ হারান তিনি। সরকার পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য শ্রমিক স্পেশালের ব্যবস্থা করলেও তাতে জায়গা হয়নি গোরক্ষপুরের এই শ্রমিকের। পরিবার সমেত তিন দিন স্টেশনেই রাত কাটিয়েছিলেন তিনি। ট্রেনে জায়গা না পেয়ে বাধ্য হয়ে চলে গেলেন ব্যাঙ্কে। এত বছর ধরে একটু একটু করে ব্যাঙ্কে প্রায় ২ লক্ষ টাকা মতো জমিয়েছিলেন লাল্লান। পুরো টাকাই তুলে একটি গাড়ি কিনে ফেললেন তিনি। সেই গাড়ি করে পরিবার নিয়ে বাড়ি ফিরলেন তিনি। 
সংবাদমাধ্যমে ওই পরিযায়ী শ্রমিক জানাচ্ছেন, ‘‌ভেবেছিলাম, লকডাউনের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। কিন্তু লকডাউন তো বেড়েই চলেছে। পরে ভাবলাম, গ্রামে ফিরে যাওয়াই ভাল। ওখানেই সুস্থ থাকবে পরিবার। অনেক চেষ্টা করেও বাস–ট্রেনের টিকিট জোগাড় করতে পারলাম না। বাসে যাওয়ার ইচ্ছে ছিল না কারণ অত লোকের সঙ্গে গেলে সংক্রমণের ভয় আছে। পরিবারকে তো বাঁচাতে হবে!‌ ট্রেনের টিকিটও জোগাড় হল না। বাধ্য হয়েই ব্যাঙ্ক থেকে সব টাকা তুলে নিয়ে গাড়ি কিনে ফেললাম। অন্তত আমরা পরিবার তো সুস্থ আছে। এটাই যথেষ্ট। গ্রামেই যদি কাজ পাই, আর কখনই গাজিয়াবাদ ফিরে যাব না।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top