আবু হায়াত বিশ্বাস, দিল্লি: উন্নাওয়ের নির্যাতিতা তরুণীর বয়ান রেকর্ড করতে হাসপাতালেই বসল অস্থায়ী আদালত। বুধবার দিল্লির এইমস হাসপাতালের জে পি অ্যাপেক্স ট্রমা সেন্টারে ওই তরুণীর বয়ান রেকর্ড করেন বিচারক ধর্মেশ শর্মা। ধর্ষণে অভিযুক্ত প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সেঙ্গার এবং শশী সিংকে অস্থায়ী আদালতে আনা হয়েছিল। তরুণীর বয়ান রেকর্ডের সময় সংবাদমাধ্যমের উপস্থিতির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। গত ৭ সেপ্টেম্বর তরুণীর বয়ান রেকর্ড করতে অস্থায়ী আদালত গঠন করার নির্দেশ দিয়েছিল শীর্ষ আদালত। আদালত জানিয়েছিল, হাসপাতালে যখন শুনানি হবে, চিকিৎসাধীন তরুণীকে ট্রলিতে করে বিচারকের সামনে আনতে হবে। সব সময় পাশে থাকবেন কোনও অভিজ্ঞ নার্স। ২০১৭ সালে তরুণী যখন নাবালিকা ছিলেন, উত্তরপ্রদেশের উন্নাওয়ের বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সেঙ্গার তাঁকে ধর্ষণ করেছিলেন বলে অভিযোগ করেছিলেন ওই তরুণী। তারপরে গত ২৮ জুলাই উত্তরপ্রদেশের রায়বরেলিতে একটি ট্রাক দুর্ঘটনায় মারাত্মক জখম হন ওই তরুণী। গুরুতর আহত হন তাঁর আইনজীবীও। তারপর শীর্ষ আদালতের নির্দেশে লখনউ থেকে দিল্লি এইমসে ভর্তি করা হয় তাঁদের। মামলাও নিয়ে আসা হয় দিল্লিতে। নিগৃহীতার দুই আত্মীয়ের দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল। যাঁদের মধ্যে একজন ধর্ষণ মামলার মূল সাক্ষী ছিলেন। গোটা ঘটনা কুলদীপের নির্দেশেই হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। নিগৃহীতার পরিবারের অভিযোগ,  প্রাণে মারতেই ষড়যন্ত্র করেছিল কুলদীপ ও তার সঙ্গীরা। অবশ্য এরই মধ্যে বিজেপি বহিষ্কার করে সেঙ্গারকে। তার আগে চাপের মুখে যোগী আদিত্যনাথের সরকারও তদন্তভার তুলে দেয় সিবিআইয়ের হাতে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে উন্নাও ধর্ষণ সংক্রান্ত মামলাগুলির শুনানি গত মাস থেকে দিল্লির তিসহাজারি আদালতে শুরু হয়। গত ৫ সেপ্টেম্বর সিবিআই ওই তরুণীর বয়ান রেকর্ড করেছিল। গত মাসে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, দুর্ঘটনার তদন্ত সাত দিন, বড় জোর পনেরো দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে। লখনউতে চলা পাঁচটি মামলাই দিল্লিতে স্থানান্তরিত করা হয়। ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠন করে প্রতিদিন শুনানি চালু রেখে ৪৫ দিনের মধ্যে শুনানি শেষ করতে হবে বলে জানিয়েছিল শীর্ষ আদালত। লক্ষণীয়, কুলদীপ সেঙ্গারের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনার পর একের পর এক বিপর্যয় নেমে আসে উন্নাওয়ের তরুণীর জীবনে। তাঁর বাবাকে পুলিস ধরে নিয়ে যায়। লক আপে মৃত্যু হয় বাবার। পুলিসি নির্যাতনেই মৃত্যু বলে অভিযোগ। ক্রমাগত চাপ আসতে তাকে পরিবারের ওপর। গত ১২ জুলাই অভিযোগকারিণীর পরিবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈকে চিঠি লিখে জানায়, মামলা তুলে নেওয়ার জন্য সেঙ্গার ও তাঁর সঙ্গীরা নানাভাবে তাঁদের ওপর চাপ দিয়ে যাচ্ছে, ভয় দেখাচ্ছে। পরিবার বিপন্ন বোধ করছে। সেই চিঠি দেরি করে পৌছোয় প্রধান বিচারপতির কাছে। তার মধ্যেই ২৮ জুলাই তারিখে উন্নাও থেকে গাড়িতে রায়বরেলি যাওয়ার পথে ঘটে ট্রাকের ধাক্কার ঘটনাটি। ওতে নম্বরের প্লেটে কালো রঙ দেওয়া ছিল। ১ আগস্ট সুপ্রিম কোর্ট উন্নাও ধর্ষণ সংক্রান্ত পাঁচটি মামলার শুনানি দিল্লির আদালতে নিয়ে আসার নির্দেশ দেয়। 

ছবি: অভিযুক্ত বিধায়ক কুলদীপ সেঙ্গার
 

জনপ্রিয়

Back To Top