বিভাস ভট্টাচার্য: ত্রিপুরায় লেনিনের মূর্তি ভাঙার প্রতিবাদে ঝড় সোশ্যাল মিডিয়ায়। সোমবার বিলোনিয়ায় বুলডোজার দিয়ে লেনিন মূর্তি ভাঙার ছবি প্রকাশ হতেই নিন্দা শুরু হয়। ত্রিপুরা ছাড়িয়ে দেশ এমনকী বিদেশ থেকেও আরএসএস, বিজেপির এই ভূমিকার নিন্দার পোস্ট আছড়ে পড়তে থাকে টুইটার, ফেসবুকে। লেনিনের ছবি দিয়ে অনেকে পোস্ট করেন সেই বিখ্যাত লাইন, ‘‌গুঁড়িয়ে পাথর, পুড়িয়ে ছবি/‌যতই মুছি ওঁকে—/‌হাজার লেনিন লক্ষ হয়েই/‌জাগেন— কোটি বুকে।’‌ পাল্টা প্রচারে নেমেছেন বিজেপি, আরএসএস সমর্থকরা। তাঁরা লিখছেন, ‘‌আচ্ছে দিন ইন ত্রিপুরা।’‌ কেউ কেউ কার্টুন এঁকে বলেছেন, ত্রিপুরায় আক্রান্ত গণতন্ত্র। অনেকে আবার সেখানকার নানান ঘটনার ছবি, ভিডিও পোস্ট করে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। তাঁদের পাল্টা ‘‌বিদেশিদের মূর্তি, ছবি থাকবে না দেশে।’‌ 
প্রতিবাদে কেউ বলেছেন, ‘‌ফ্যাসিস্ট হিন্দু তালিবান’‌ আবার কেউ বা কটাক্ষ করে মূর্তি ভাঙার ছবি পোস্ট করে ব্যাঙ্গোক্তি করেছেন, ‘‌জাগছে ত্রিপুরা।’‌ ত্রিপুরার ভাবী মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লবকুমার দেবের উদ্দেশে আবেদন করে কেউ বলেছেন, তিনি যেন দুষ্কর্মকে প্রশ্রয় না দিয়ে কঠোর হাতে শাসন ব্যবস্থা চালান। ত্রিপুরার ঘটনার মধ্য দিয়ে আগামী দিনে দেশ কোনদিকে যাচ্ছে সে ব্যাপারেও আশঙ্কা প্রকাশ করে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। ফেসবুকে লেখা হয়েছে, ‘‌দেশকে কোন দিকে সরকার নিয়ে যাচ্ছে, দেশের পরিস্থিতি কী হচ্ছে এবং আগামী দিনে কী হবে তার পূর্বাভাস‌।’‌ ত্রিপুরাবাসীর উদ্দেশে লেখা হয়েছে, ‘‌খাল কেটে কুমির আনার ফল ত্রিপুরাবাসী এবার ভালভাবে বুঝতে পারবেন।’ মসুল জয়ের পর সেখানে আইসিসের মূর্তি ভাঙার যে ছবি নানা সময় প্রকাশিত হয়েছে, তার সঙ্গেই তুলনা হয়েছে ত্রিপুরায় লেনিনের মূর্তি ভাঙার ছবি। সোশ্যাল সাইটে লেনিনের মূর্তি ভাঙার যে ছবি প্রকাশিত হয়েছে, তাতে দেখা গেছে, কিছু লোক মূর্তি ভাঙার সঙ্গে স্লোগান তুলছেন ‘‌ভারতমাতা কী জয়’‌। নেটিজেনদের কাছে প্রশ্ন তুলে কেউ কেউ জানতে চেয়েছেন, ‘‌দয়া করে জানান, মূর্তি ভাঙার শিক্ষা ভারতমাতা কবে এবং কোথায় দিয়েছেন?‌’ যাদবপুরের এক বাম সমর্থকের পোস্ট, ‘‌খেজুরি–সেন্ট পিটার্সবুর্গ–গড়বেতা–যাদবপুর–বিলোনিয়া। বিকৃত জান্তব উল্লাসে আক্রান্ত লেনিন।’‌ ‌

জনপ্রিয়

Back To Top