আজকাল ওয়েবডেস্ক: ‌লাল দুর্গ গুঁড়িয়ে দিয়ে ঐতিহাসিক জয়ে ত্রিপুরায় সরকার গড়ছে বিজেপি। ৬০ আসনের বিধানসভায় ভোট হয়েছিল ৫৯টি আসনে। ৪৪টি আসন জিতে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে গেরুয়া শিবির। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে প্রদেশ বিজেপির সভাপতি বিপ্লব কুমার দেব। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বললেন, দলই ঠিক করবে কে মুখ্যমন্ত্রী হবেন। দল দায়িত্ব দিলে তিনি অবশ্যই তা পূরণ করবেন। মানুষ তাঁদের ‘‌চলো পাল্টাই’‌ স্লোগানে সাড়া দিয়েছেন। নতুন সরকারের লক্ষ্যই হবে মানিক সরকার নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলের অনুন্নয়ন দূর করে রাজ্যকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। শনিবার সন্ধ্যাতেই বিজেপির সংসদীয় কমিটির বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঠিক হওয়ার কথা। 
সকালে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থীদের জয়ের খবর আসতেই আগরতলায় প্রদেশ বিজেপির সদর দপ্তরে উল্লাসে ফেটে পড়েন কর্মীসমর্থকরা। শুরু হয়ে যায় আবির খেলা, আতসবাজি পোড়ানো, মিষ্টিমুখ। উত্তরপূর্বের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজেপি নেতা রাম মাধব বলেন, ত্রিপুরসুন্দরী দেবীর আশির্বাদেই এই ঐতিহাসিক জয়।

জয়ের জন্য রাজ্যবাসী এবং দলীয় কর্মী–সমর্থকদের ধন্যবাদ দিয়ে তিনি বলেন প্রধানমন্ত্রী উত্তরপূর্বের উন্নয়নে জোর দেওয়ার ফল মিলেছে ভোটবাক্সে। ত্রিপুরায় বিজেপির জয়ের খবরে দেশজুড়ে খুশির আমেজ দলীয় কর্মী–সমর্থকদের মধ্যে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও মোদি–শাহ জুটির অবদানের প্রশংসা করেন। বিকেলে দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ বলেন, পরপর জয় সদর্থক ইঙ্গিত। কর্নাটক বিধানসভা এবং ২০১৯–এর লোকসভাও জিতবে বিজেপি বলে আশাবাদী অমিত শাহ। কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেন, উত্তরপূর্বের জয়ে প্রমাণিত, দেশবাসী কংগ্রেসমুক্ত ভারত চাইছে।  
অন্যদিকে, ২৫ বছর পর ক্ষমতাচ্যুত হওয়া সিপিএমের অভিযোগ, ভোটে জেতার জন্য টাকা, অন্যান্য সুযোগসুবিধা এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়েছিল বিজেপি। তবে হারলেও তাদের উপর আস্থা রাখা ৪৫ শতাংশ ভোটারদের ধন্যবাদ দিয়ে সিপিএম বলেছে, আদিবাসী, শ্রমিক শ্রেণির জন্য তাদের লড়াই চলবে।   

জনপ্রিয়

Back To Top