ভোলানাথ ঘড়ই,আগরতলা: শুক্রবার বেলা ১২টায় শুরু হচ্ছে ত্রিপুরার নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। বিজেপি সরকারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন বিপ্লব দেব। উপমুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেবেন জিষ্ণু দেববর্মন। এছাড়া কারা কোন মন্ত্রিত্ব পাবেন তা বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত কেউ জানেন না। গোটাটাই রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের নিয়ন্ত্রণে। আইপিএফটি সুপ্রিমো তাঁর ৮ বিধায়কের মধ্য থেকে ৪ জনকে মন্ত্রী করার দাবি করলেও 
ক’‌টি পাবেন এখনও জানেন না। শহরে এখন শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন নিয়ে ব্যস্ততা তুঙ্গে। আগরতলা বিমানবন্দর থেকে স্টেট গেস্ট হাউস পর্যন্ত ভিআইপি রোড ধরে বাঁশের ব্যারিকেড। এদিন বিকেল ৩টে নাগাদ চার্টার্ড বিমানে আগরতলায় এসেছেন বিজেপি–‌র সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। সঙ্গে ভূপেন্দ্র যাদব। হিমন্ত বিশ্বশর্মা ও রাম মাধব তো আছেনই। অসম–‌‌মণিপুর–‌‌ত্রিপুরা রোজই যাতায়াত করছেন চার্টার্ড বিমানে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ভোটের আগে প্রচার করেছেন। কিন্তু শপথ অনুষ্ঠানে আসতে পারবেন না, জানিয়ে দিয়েছেন। উপনির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত তিনি। ১৯টি বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কিরেন রিজিজু, নির্মলা সীতারামন–‌সহ ৮ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ইতিমধ্যেই এসে পড়েছেন। শহর মুখিয়ে আছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্য। আসছেন লালকৃষ্ণ আদবানি, মুরলীমনোহর যোশি, রাজনাথ সিং, সুষমা স্বরাজ, অরুণ জেটলি, নীতিন গাডকারি, জে পি নাড্ডা, অনন্ত কুমার–‌সহ বিজেপির সর্বোচ্চ স্তরের প্রায় সমস্ত নেতা। অনেকে এদিনই চলে এসেছেন। মোদি–‌সহ বাকিরা আসবেন শুক্রবার সকালে। 
এদিন বিমানবন্দর থেকে লম্বা বাইক মিছিল অমিত শাহদের নিয়ে আসে রঙিন আলোয় মোড়া সার্কিট হাউসে। রাজ্যের পাড়ায় পাড়ায় এখন এই শপথ নিয়েই আলোচনা। কে কে আসছেন, কী কী সাজসজ্জা হচ্ছে ইত্যাদি নিয়ে। এবারের শপথ অনুষ্ঠান এবার এ রাজ্যে এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে মাধ্যমিকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট পরীক্ষা হবে পরের দিন। আসাম রাইফেলস ময়দান গত দুদিন ধরেই এসপিজি–‌‌র দখলে। মাঠের একপ্রান্তে তৈরি হয়েছে লম্বা উঁচু মঞ্চ। মাঠের মধ্যে থাকছে বাঁশের ছোট ছোট নিরাপত্তা ব্লক। সেখানেই বসতে হবে সাধারণ দর্শককে। একপাশে জায়গা সাংবাদিক, চিত্রসাংবাদিকদের। সমস্ত রাজনৈতিক দলকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।  থাকবেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বীরজিৎ সিনহা প্রমুখ। ত্রিপুরার ভারত অন্তর্ভুক্তির পর ১৯৫২ সালে এখানে প্রথম লোকসভা নির্বাচন হয়। মাঝে টেরিটোরিয়াল কাউন্সিল বাদ দিলে ১৯৬৩ সালে ত্রিপুরায় প্রথম বিধানসভা নির্বাচন হয়। সেদিন থেকে এ পর্যন্ত ত্রিপুরাবাসী কখনও এত এত আড়ম্বরের শপথ দেখেনি। এ পর্যন্ত বিজেপি দেশের ২০টি রাজ্যের ক্ষমতায়। জাঁকজমকে আর সব রাজ্যের শপথ অনুষ্ঠানকে এবার ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা উত্তর–‌পুবের ছোট্ট এই রাজ্যটিতে। কেন?‌ এখানে কমিউনিস্টদের হারিয়েছে বলে!‌ জন্মলগ্ন থেকেই আরএসএসের সঙ্গে আদর্শগত তফাত লাল পতাকার। ভারতে এই প্রথম বামপন্থীদের ভোটযুদ্ধে সরাসরি হারিয়েছে বিজেপি। গোটা দেশকে সেই বার্তা পৌঁছে দিতে হবে না!‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top