আজকাল ওয়েবডেস্ক: অবশেষে উঠতে চলেছে জম্মু-কাশ্মীরের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা৷ দু’মাস পর অর্থাৎ আগামী বৃহস্পতিবার ১০ অক্টোবর থেকে সেখানে যেতে পারবেন পর্যটকরা। গত সোমবারই জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যসচিব এবং অ্যাডভাইসরদের সঙ্গে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বৈঠক সেরেছেন উপত্যকার রাজ্যপাল সত্যপাল মালিক। তারপরেই এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন রাজ্যপাল সত্যপাল মালিক। গত আগস্টে উপত্যকায় বিলোপ হয়েছে ৩৭০ ধারা এবং ৩৫ এ ধারা। এরপর পর্যটকদের রাজ্য ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই নিষেধাজ্ঞাই এবার তুলে নেওয়া হচ্ছে। গত ৫ আগস্ট নিরাপত্তার খাতিরে নানা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল উপত্যকায়। বন্ধ করে দেওয়া হয় ইন্টারনেট পরিষেবা। সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয় টেলিফোন লাইনের। মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত সেনাবাহিনী। দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল স্কুল-কলেজ। এমনকি আটক করা হয় উপত্যকার বেশ কয়েকজন প্রথম সারির রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকেও। এর মধ্যে তড়িঘড়ি পর্যটকদের রাজ্য ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। মাঝপথেই থামিয়ে দেওয়া হয় অমরনাথ যাত্রা। ফিরে যেতে বলা হয় তীর্থযাত্রীদের। সে সময় বলা হয়েছিল জঙ্গি নাশকতার আশঙ্কা রয়েছে। তাই নিরাপত্তার খাতিরে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরের সরকারি পরিবহণের সাহায্যে সমতলে নামিয়ে আনা হয় পর্যটকদের। সরকারের আচমকা এই সিদ্ধান্তের জেরে ভোগান্তির একশেষ হয় সাধারণ মানুষের। প্লেনের টিকিটের আশায় শ্রীনগর এয়ারপোর্টে জমা হন কাতারে কাতারে লোক। সরকারের এই সিদ্ধান্তে মাথায় হাত পড়েছিল উপত্যকার ব্যবসায়ীদেরও। পর্যটন এখানকার একটা বড় অংশের মানুষের রুজিরুটির জোগান দেয়। পরিসংখ্যান বলছে, বছরের প্রথম সাত মাসে প্রায় ৫ লক্ষ লোক আসেন উপত্যকায়। অমরনাথ যাত্রা শুরুর আগে এ বছর জুলাই মাসেও জম্মু-কাশ্মীরে গিয়েছিলেন প্রায় সাড়ে তিন লাখ তীর্থযাত্রী। তবে চলতি বছর ৩৭০ ধারা বিলোপের আগে পর্যটকদের উপত্যকা খালি করার নির্দেশ দিয়েছিল সরকার। এই সিদ্ধান্তের জেরে ব্যবসায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে উপত্যকার ব্যবসায়ীদের। তবে বৃহস্পতিবার থেকে ফের উপত্যকা যেতে পারবেন পর্যটকরা। ফলে ব্যবসায় মন্দা কাটিয়ে খানিক লাভের মুখ দেখবেন বলে আশা করছেন উপত্যকার ব্যবসায়ীরা।

জনপ্রিয়

Back To Top