আজকালের প্রতিবেদন: অসমে পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রচার করতে গিয়ে তৃণমূলের জনজোয়ার দেখে এলেন রাজ্যের মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ ও  আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী। দুজনেই ধূপগুড়িতে দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে জনসভা করেন। জনসভায় ভিড় দেখে দুই নেতাই উচ্ছ্বসিত। তাঁদের বক্তব্য, জেলা পরিষদ, আঞ্চলিক পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতিতে এবার তৃণমূলের বহু প্রার্থী জয়ী হবেন। বৃহস্পতিবার ধূপগুড়িতে রবীন্দ্রনাথবাবুর জনসভায় এলাকার প্রার্থীরাও ছিলেন। তিনি প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের অবস্থা সম্পর্কে জানতে চান। বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘‌নাগরিকপঞ্জির নামে ৪০ লক্ষ বাঙালির নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। অসমে বিজেপি সরকার বাঙালিদের ওপর অত্যাচার করছে। সংখ্যালঘু ভাইবোনদের ওপর আক্রমণ করা হচ্ছে। ভাষা নিয়ে ভাগাভাগি করছে। এটা চলতে দেওয়া যাবে না। ২০১৯–‌এ লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি–‌কে হঠিয়ে নতুন সরকার আসবে।’‌ আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি সরকার থাকবে না বলে ২ নেতা জানিয়ে দিয়েছেন। জনসভায় ছিলেন অসম তৃণমূলের রাজ্যসভাপতি গোপীনাথ দাস। সৌরভ চক্রবর্তী বলেন, অসমে ‘‌বাঙালিদের ওপর অত্যাচার বন্ধ না হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অর্থনৈতিক অবরোধ করে অসম সরকারকে শিক্ষা দিতে পারি।’‌ ধুবড়ির চিরাকুটি ও ফকিরগঞ্জে জনসভায় বক্তব্য পেশ করেন সৌরভ। তিনি বলেন, ‘‌এনআরসি ভাষাগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার বন্ধ করতে হবে। দিদি নির্দেশ দিলে অর্থনৈতিক অবরোধ করে দিতে পারি। এনআরসি–‌র নাম করে বহুদিনের বাসিন্দা বাংলাভাষীদের অসম থেকে তাড়ানোর চক্রান্ত চলছে। এভাবে চলতে থাকলে বাংলা কিন্তু চুপ থাকবে না।’‌ ৯ ডিসেম্বর পঞ্চায়েত ভোটের দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রচার আজ শেষ হচ্ছে। স্থানীয় নেতারাই প্রচার করবেন। সৌরভ বলেন, ‘‌যেভাবে আসামের তৃণমূল প্রচার করছে, তা সত্যিই আমাদের অবাক করেছেন। চারিদিকে দিদির ছবি, ব্যানার ও পোস্টার লাগানো হয়েছে। পঞ্চায়েতে বিজেপি–‌কে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।’‌ সৌরভও আলিপুরদুয়ার থেকে বেশ কিছু পোস্টার নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, অসম আমি হাতের তালুর মতো চিনি। মণিপুরের দায়িত্বে ছিলাম। অসমের রাজনীতি আমি জানি। প্রচার দেখে মনে হয়েছে, তৃণমূলের জয় কেউ আটকাতে পারবে না।

অসমে পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রচারে তৃণমূল বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী। পাশে, তৃণমূল প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচারে প্রার্থীদের সঙ্গে মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। বৃহস্পতিবার ধুবুরিতে। ছবি: আজকাল

জনপ্রিয়

Back To Top