আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ রাস্তা চওড়া করার প্রকল্প হাতে নিয়েছিলেন কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী এইচডি কুমারস্বামী। কিন্তু সেই প্রকল্পে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন ১০৭ বছরের পদ্মশ্রী পুরষ্কারপ্রাপ্ত সমাজকর্মী সালুমারাদা থিমাক্কা। যার ফলে শতাধিক গাছের কাটা পড়ার ভাগ্য পাল্টাতে চলেছে। এমনই খবর প্রকাশ্যে আসতেই কর্নাটক জুড়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
এই বিষয় নিয়ে শতায়ু সমাজকর্মী দেখা করলেন কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী এইচডি কুমারস্বামী এবং উপ–মুখ্যমন্ত্রী জি পরমেশ্বরের সঙ্গে। তাঁদের তিনি বোঝান, বাগেপল্লী–হালাগুরু রাস্তা সম্প্রসারণের প্রকল্প থামিয়ে দিতে হবে। কারণ সেখানে বেঙ্গালুরুর হাইওয়ে সংলগ্ন রামানগর জেলার অন্তর্গত কুদুর থেকে হুদিকাল চার কিলোমিটার রাস্তা জুড়ে ১৯৬০ সাল থেকে তিনি ৩৮৫টি অশত্থ গাছ বসিয়েছেন তিনি। রাস্তা সম্প্রসারণ করতে গেলে সেগুলি কাটতে হবে। যা তিনি চান না। 
এই বিষয়ে তিনি বলেন, ‘‌আমি কখনও এটা মেনে নেব না, যে গাছগুলি বসিয়েছি তা কেটে ফেলা হোক। সরকারকে এই প্রকল্প করতে অনুমতি দেব না।’‌ প্রবীণ এই পরিবেশবিদ তথা সমাজকর্মীর সঙ্গে বৈঠক করার পর নিজেদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলেন কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‌এটা সত্যি যে এই গাছগুলিকে তিনি নিজের সন্তানের মতো লালনপালন করেন। এবার এটা আমাদের দায়িত্ব এই গাছগুলিকে রক্ষণাবেক্ষণ করা। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি গাছগুলির ক্ষতি না করে অন্যভাবে রাস্তা সম্প্রসারণের প্রকল্প বাস্তবায়িত করা যায় কিনা।’‌ 
কিন্তু কেন গাছগুলির প্রতি এতো দরদ শতায়ু সমাজকর্মীর?‌ সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘‌বিয়ের বেশ কয়েক বছর পরও তাঁদের কোনও সন্তান হয়নি। তখন আমি এবং আমার স্বামী ঠিক করি, গাছ লাগিয়ে সেগুলিকে সন্তান স্নেহে বড় করলে কেমন হয়!‌ তারপর থেকেই আমরা এই কাজ করে গিয়েছি। তাতে পরিবেশেরও ভাল হয়। আবার নিজেদের সন্তানের আবেগকেও ধরে রাখা যায়।’‌ আর তাঁর এই আবেগকেই সম্মান জানালো কর্নাটকের সরকার।  

 

 

 

 

ছবি—নিউইন্ডিয়ানএক্সপ্রেস ডট কম।

জনপ্রিয়

Back To Top