আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ফের কাঠগড়ায় পুলিশ। তবে এবার ঘটনাস্থল দিল্লি নয়, তেলঙ্গানার সঙ্গা রেড্ডি জেলা। পুলিশ সূত্রে খবর, সোমবার সকালে জেলার পাটনচেরুতে বেসরকারি কলেজ নারায়ণ জুনিয়র কলেজের ছাত্রী, ১৬ বছরের সন্ধ্যারানির মৃতদেহ কলেজের শৌচাগারে উদ্ধার হয়। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লেও কলেজ কর্তৃপক্ষ তাকে বাড়ি ফেরার অনুমতি না দেওয়ায় সে আত্মহত্যা করে। অভিযোগ, সন্ধ্যারানির মৃতদেহ ধাতব কফিনে করে প্রকাশ্য দিবালোকেই ধাক্কা দিয়ে রাস্তায় টেনে নামাতে শুরু করে একদল পুলিসকর্মী। তা দেখে মৃতার বাবা বাধা দিতে গেলে এক কনস্টেবল্‌ তাঁকেই লাথি মারতে শুরু করেন। তা সত্ত্বেও মেয়ের কফিন আঁকড়ে ধরে রেখেছিলেন বাবা। ফুটেজে আরও দেখা যাচ্ছে এক মহিলা ওই ব্যক্তিকে বাঁচাতে ছুটে আসলে তাঁকেও ধাক্কা দিচ্ছেন ওই মারমুখী কনস্টেবল্‌।
পুরো ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সামনে আসতেই তেলঙ্গানা পুলিশের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছে জনতা। ওই ভিডিও ক্লিপটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। আর তারপরই নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য পুলিশের শীর্ষ মহল। সঙ্গা রেড্ডি জেলার এসপি চন্দনা দীপ্তি বলেছেন, ওই কনস্টেবলকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনে তাঁর কাউন্সেলিংও করা হবে। এরপরই ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে এসপি বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য যখন পুলিশকর্মীরা সন্ধ্যারানির দেহ নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন তখন তার পরিবার মৃতদেহ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিল। তা রুখতে গিয়েই ওই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে যায়।
সন্ধ্যারানির অস্বাভাবিক মৃত্যুতে আত্মহত্যার মামলা রুজু করেছে পুলিশ। সন্ধ্যারানি পরিবারের অভিযোগ, ধুম জ্বর নিয়ে সেদিন কলেজে গিয়েছিল সন্ধ্যারানি। এমনকি বেশ কয়েকদিন ধরে মানসিক অবসাদেও ভুগছিল সে। তা সত্ত্বেও তাকে বাড়ি ফেরার অনুমতি না দেওয়ায় কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কর্তব্যে অবহেলার জন্য ফৌজদারি মামলা রুজু হয়েছে। পরিবারের আরও অভিযোগ, মেয়ের মৃত্যুর অনেকক্ষণ পর তাঁদের সেব্যাপারে জানানো হয় কলেজের তরফে। সন্ধ্যারানির ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলেই মৃত্যুর কারণ জানা যাবে বলে মনে করছে পুলিশ।
ছবি:‌ এএনআই         ‌      

জনপ্রিয়

Back To Top