আজকালের প্রতিবেদন, দিল্লি: দিল্লির হিংসায় সাসপেন্ড–‌‌হওয়া আপ কাউন্সিলর তাহির হুসেনই মূল পান্ডা?‌ দাঙ্গাপীড়িত চাঁদবাগ সংলগ্ন মুঙ্গা নগরে এলে তেমনটাই মনে হতে পারে। বুধবার কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা অফিসার অঙ্কিত শর্মার দেহ যেখানে উদ্ধার হয়েছিল, সেই জায়গা পরীক্ষা করে দেখছে ফরেন্সিক দল। দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘিরে রেখেছে তাহিরের চারতলা বাড়িটি। তল্লাশি চলছে। মাছি গলতে দেওয়া হচ্ছে না। এত বাহিনী এ তল্লাটে অন্য কোথাও নেই।
এ পাড়ায় একটি বড় দুর্গা মন্দির–‌‌সহ তিনটি মন্দির সম্পূর্ণ অক্ষত। বড় রাস্তায় গড়াগড়ি খাচ্ছে টুকরো ইট। যেন ইটের চাদর বিছিয়ে দিয়েছে কেউ। বাসিন্দারা বাড়ি ছেড়ে বের হচ্ছেন না। গলিতে কেউ মুখ বাড়ালেই তেড়ে যাচ্ছে ভারী বুট। অথচ দিব্যি বাইক নিয়ে এলাকা দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন তিলকধারীরা। ঢুকে পড়া গেল কাউন্সিলরের বাড়ির উল্টোদিকের এক গলিতে। চাঁদবাগের আশেপাশে মুঙ্গা নগর, চন্দু নগর, দয়ালপুর, জহরিপুর, লালবাগ মন্ডি, মুস্তফাবাদ সংখ্যালঘু সম্প্রদায় অধ্যুষিত অঞ্চল। এক গলিতে দেখা হল বছর তিরিশের সাবির আলির সঙ্গে। তিনি তাহিরের সঙ্গী। অনুগামী। আইবি অফিসার খুনে তাহিরের নাম জড়ানোর পরেই বৃহস্পতিবার তড়িঘড়ি তাহিরকে সাসপেন্ড করেছে আম আদমি পার্টি। সাবিরের মোবাইলে রয়েছে কিছু ভিডিও ফুটেজ ও ছবি। সেগুলি দেখিয়ে তাঁর দাবি, সোমবার সকাল থেকে পুলিশের সহযোগিতা চাইছিলেন তাহির। দয়ালপুর থানার এসএইচও–‌‌কে বার বার ফোন করছিলেন। কারণ, তাঁর বাড়ির নিচে ইট, পাথর জড়ো হচ্ছিল। কিছু দূরে মোহন নার্সিংহোম অ্যান্ড হসপিটালের ছাদে গেরুয়া শিবিরের লোকেরা জড়ো হয়েছিল। গুলি চালাচ্ছিল। এদিকে তাহিরের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল স্থানীয় অনেকেই। পুলিশ এলেও কোনও ব্যবস্থা নিল না। তখনই বাড়ির ছাদে লাঠি হাতে ঘুরতে দেখা গিয়েছিল তাহিরকে। আত্মরক্ষার অন্য কোনও উপায় না দেখে শেষমেশ বাড়ি ছাড়েন তিনি।‌ তারপর পুলিশের মদতেই হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। 
সাবির বলছিলেন, ‘‌এরপর সোম–‌‌মঙ্গল–‌‌বুধবার একটানা ভাঙচুর, লুঠপাট চলেছে। কয়েকজনের প্রাণ গেছে। বুধবার আরও দুঃখজনক ঘটনাটি ঘটে। উত্তেজিত জনতার রোষের মুখে পড়ে নির্মম ভাবে নিহত হন আইবি অফিসার অঙ্কিত। কিন্তু, এর সঙ্গে তাহিরের কোনও সম্পর্ক নেই। কারণ ততক্ষণে তিনি ঘরছাড়া। ওঁর বাড়ির ছাদে ইট এবং পেট্রোল বোমা রেখে দোষী সাব্যস্ত করার ষড়যন্ত্র হচ্ছে।’‌ সাবিরের মোবাইল গ্যালারি দেখাচ্ছে, তাহির পুলিশের সঙ্গে কথা বলছেন। তাঁর বাড়ির নীচে ইট জড়ো করা হচ্ছে। উল্টোদিকের নার্সিংহোমের ছাদ থেকে গুলি চলছে।
তাহির এবং বিজেপি নেতা কপিল মিশ্রর পুরনো বন্ধুত্ব সর্বজনবিদিত। পরে কপিল বিজেপি–‌‌তে যোগ দেন। তাহির ২০১৭ সালে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। সেই থেকে দু’‌জনের বিরোধ শুরু। এখন তাহিরকে কাঠগড়ায় তোলার পিছনে রয়েছেন ‘‌নাটের গুরু’‌ কপিলই।‌‌

২৪ ফেব্রুয়ারির ছবি। তখন পুলিশের সাহায্য চাইছিলেন তাহির হুসেন (মেরুন সোয়েটার)। ছবি: সংগৃহীত

জনপ্রিয়

Back To Top