আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ সেই ন’‌ বছর বয়সে প্রথম দেখা। মাঝে অনেক ঝড়জল গেছে। তবু দু’‌জনেই নাছোড়। বিয়েটাও করেই ছাড়লেন। এক জন হুইলচেয়ারে বসে, আর এক জন তাঁর হাত ধরে ঘুরলেন সাত পাক। বিয়ের মণ্ডপ?‌ চণ্ডীগড়ের এক রিহ্যাব। মেরুদণ্ডের চিকিৎসার জন্য সেপ্টেম্বর থেকে সেখানেই ভর্তি রাহুল সিং দিবাকর।
সোমবার আলো, ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছিল চণ্ডীগড়ের ওই রিহ্যাব। বাজছিল সানাই। অতিথি বা স্বজন সবাই ওই রিহ্যাবেরই বাসিন্দা। তাঁদেরও চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসার ফাঁকে এক টুকরো টাটকা বাতাস এনে দিলেন রাহুল আর অনামিক।
এককালে ফতেগড়ে প্রতিবেশী ছিলেন রাহুল আর অনামিকা। ছোট থেকেই একে অপরকে পছন্দ করেন। এখন দু’‌জনেরই বয়স ২৯। রাহুল জানালেন, রোজ বাড়ি থেকে বেরিয়ে অনামিকার মুখ না দেখে কোথাও যেতেন না।
কিন্তু সেদিন গেছিলেন। ২০১৬ সালের ১৩ মার্চ। পরীক্ষা ছিল। তাড়াহুড়ো করে অনামিকার সঙ্গে দেখা না করেই রওনা হয়েছিলেন। পথে বাইক দুর্ঘটনা। মেরুদণ্ডে চোট পান রাহুল। তার পর আর উঠে দাঁড়াতে পারেননি। শরীরে নীচের অংশ পঙ্গু হয়ে যায়। সেই থেকে পাশে অনামিকা।
রাহুলের বাবা, মা, বোন চাকরিতে যেতেন। তখন বাড়ি গিয়ে তাঁর সেবা করতেন অনামিকা। এর পর রাহুলের বাবা লখনউতে বদলি হয়ে যান। তখনও সম্পর্ক টিকিয়ে রাখেন অনামিকা। এর পর বিয়ের প্রস্তাব পাড়েন নিজেই। রাহুলের পরিবার অস্বীকার করে। অনামিকার বাবা–মা অবশ্য আগেই মারা গিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত রাহুলের বাবাকে রাজি করান। রিহ্যাবেই বিয়ের পিঁড়িতে বসেন এই যুগল। 

জনপ্রিয়

Back To Top