আজকাল ওয়েবডেস্ক: করোনা ভাইরাসের প্রতিষেধক কোনও টিকা এখনও আবিষ্কার হয়নি। সারা বিশ্বে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এই ভাইরাসের আক্রমণে, আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেশি। তাঁরা কেউ কেউ সুস্থ হয়ে উঠলেও , সে সংখ্যাটা নিতান্তই তুলনায় কম। এই অবস্থায় দেশে চলছে লকডাউন। তবু দিন যাপনের জন্য কখনও কখনও দোকান বাজারে যেতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। সামাজিক দূরত্বও মেনে চলছেন অনেকেই। কিন্তু যাঁরা যাঁরা কাজের প্রয়োজনে বাইরে বেরোচ্ছেন, তাঁরা ফিরে এসে জামাকাপড়গুলো কী করবেন, তা নিয়ে ভাবনায় পড়ছেন। যিনি চিকিৎসাক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত তাঁর জামাকাপড়-আর যিনি বাজার , দোকানে বেরোচ্ছেন তাঁর জামাকাপড় ধোয়া কাচার ক্ষেত্রে কোনও আলাদা নিয়ম কি মেনে চলা দরকার?
উত্তরটা হ্যাঁ, অবশ্যই। গবেষণা বলছে এই কোভিড ১৯ অচ্ছিদ্র তলযুক্ত বস্তু বা অবস্থায় বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়, ছিদ্রযুক্ত জায়গায় তুলনামূলকভাবে কম স্থায়ী হতে পারে। তাই জামাকাপড়ে খুব বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারে না এই ভাইরাস। স্টিল, কাঠের কোনও দরজা, টেবিল ইত্যাদিতে বেশি সময় ধরে থাকে। তাই জামাকাপড়ে কিছুক্ষণ হলেও যেহেতু থাকে, বাইরে থেকে এসে জামাকাপড় অবশ্যই ধুয়ে ফেলতে হবে। এক্ষেত্রে প্রশ্ন আসতে পারে যিনি চিকিৎসাক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত তাঁর পোশাক আর যিনি একটু আধটু বাজার দোকানে যাচ্ছেন তাঁর পোশাক একসঙ্গেই ধোয়া যেতে পারে কি না, না পারে না। 
বাজারে যে পোশাকে যাচ্ছেন, সেটা বাইরের ঘরে বা আলাদা কোথাও টাঙিয়ে রেখে পরের দিনও চাইলে ওটা পরে বাইরে বেরোতে পারেন। তবে তার বেশি দিন নয়। আর সেই পোশাক বাড়ির অন্যদের পোশাকের সঙ্গে ধোয়া কাচায় বিশেষ অসুবিধেও নেই। কিন্তু যে বা যাঁরা সরকারি বা বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বা হাসপাতালে যাচ্ছেন, করোনা হয়েছে কি না সে জাতীয় রোগীদের পরীক্ষা করছেন, তাঁদের পোশাক দ্বিতীয় দিনও পরা যাবে না। আর অবশ্যই কাচা ধোয়া হবে আলাদা। সেই পোশাকের সঙ্গে বাড়ির অন্য কারও পোশাক একসঙ্গে কাচা চলবে না। এমনকি সেই সব পোশাক ধরার সময়ে বাড়ির অন্য মানুষদের হাতে গ্লাভস পরে নেওয়াই ভালো। সাবধানতা বজায় রাখলে সংক্রমণ আটকানো সম্ভব। সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ তনু সিংঘল বলছেন, কাপড় কাচার সাবান সহজেই ভাইরাস কাবু করতে সক্ষম হয়। তাই কেচে ফেললে ভাইরাসের কাজ করার শক্তি নির্মূল করা যেতে পারে। স্নানের তোয়ালে ব্যবহারের ক্ষেত্রেও একে অপরেরটা ব্যবহার না করাই শ্রেয়। এমনকি মুম্বইয়ের কস্তুরবা হাসপাতালের নার্স , চিকিৎসকরা সরকারি নিয়ম মেনেই তাঁদের পোশাক আলাদাভাবে ধুতে লন্ড্রিতে পাঠাতে শুরুও করেছেন। 
এখনও ভারতে এই ভাইরাস তার থার্ড স্টেজে পৌঁছতে পারেনি। তাই কমিউনিটি ট্রান্সমিশন শুরু হয়নি সেভাবে। এই সময়ে খুব সাবধানতা আর সচেতনতা নিয়ে চললে এ দেশে ইতালি, চীন, স্পেনের মতো মর্মান্তিক পরিণতি আটকানো সম্ভব।

জনপ্রিয়

Back To Top