আজকালের প্রতিবেদন, দিল্লি: মহারাষ্ট্রে ক্ষমতা থেকে ছিটকে যাবে বিজেপি?‌ নতুন সরকার গঠন নিয়ে অচলাবস্থায় নাটকীয় মোড় দেখা গেল শুক্রবার। অবস্থা যা, কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী মত দিলেই কংগ্রেস–‌এনসিপি জোট সমর্থন জানিয়ে দেবে শিবসেনাকে। ক্ষমতা থেকে ছিটকে যাবে বিজেপি। সূত্রের খবর, সোমবার দিল্লিতে সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকে বসবেন এনসিপি কর্ণধার শারদ পাওয়ার। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে তখনই।
মহারাষ্ট্রে সরকার গড়ার রাজনীতি শুক্রবার মুম্বই থেকে চলে আসে দিল্লিতে। গতকাল, বৃহস্পতিবার পাওয়ারের সঙ্গে দেখা করেছিলেন শিবসেনা নেতা, সাংসদ সঞ্জয় রাউত। তার পরই শুক্রবার গতি আসে নতুন সমীকরণ খেঁাজায়। এদিন সকালের দিকেই সঞ্জয় রাউত সরাসরি হুমকি দেন, শিবসেনা চাইলেই মহারাষ্ট্রে সরকার গড়ার সংখ্যা পেয়ে যাবে। ব্যাপারটা ফঁাকা আওয়াজ নয়, তা স্পষ্ট হয় কংগ্রেস–‌এনসিপি শিবিরের তৎপরতায়। মুম্বইয়ে পাওয়ারের বাড়িতে যান মহারাষ্ট্র প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি বালাসাহেব থোরাট, দুই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পৃথ্বীরাজ চবন ও অশোক চবন। তার পর তঁারা চলে আসেন দিল্লিতে। রাতে সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেন। কথাবার্তা হয় ঘণ্টা দেড়েক। সোনিয়া তাড়াহুড়ো করতে চাইছেন না। সব দিক খতিয়ে দেখতে চান তিনি। শিবসেনার মতিগতিও বুঝে নিতে চান। আর পুরনো শরিক দলের নেতা শারদ পাওয়ারের মত তো নিতেই হবে। জানা গেছে, এদিন উদ্ধব ঠাকরের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে পাওয়ারের। তিনি আসবেন এবার দিল্লিতে সোনিয়ার সঙ্গে কথা বলতে।
২৪ অক্টোবর ভোটের ফল বেরোনোর পরপরই পৃথ্বীরাজ চবন ও অশোক চবনের কথায় ধরা পড়ে বিজেপি–‌কে ঠেকানোর আগ্রহ। শারদ পাওয়ার বরং ছিলেন সতর্ক। জানান, এনসিপি বিরোধী আসনে বসারই জনাদেশ পেয়েছে। পরবর্তী দিনগুলিতে শিবসেনার দিক থেকে আসতে থাকে সন্ধির বার্তা। দলের মুখপত্র সামনা–‌য় সঞ্জয় রাউতের কলামে এনসিপি ও পাওয়ারের প্রশংসা। শেষ পর্যন্ত বৈঠক। সত্যিই এবার নতুন জোট?‌ কংগ্রেস, এনসিপি–‌তে তো বটেই, শিবসেনার ভেতরেও এই ধরনের জোট নিয়ে আপত্তির সম্ভাবনা রয়েছে। তিন দলেই বিধায়কদের আগলে রাখার চিন্তা রয়েছে। তা ছাড়া, বিজেপি–‌র হিন্দুত্ববাদী শরিক শিবসেনাকে সমর্থন দেওয়ার ভাল–মন্দ দিক,  জাতীয় রাজনীতিতে কতটা সমস্যা তৈরি হবে, সেই চিন্তা কংগ্রেসে আছেই। বাইরে থেকে সমর্থন, না সরকারে যাওয়া— সেই বিষয়টিও রয়েছে। 
বিধানসভা ভোটের ফল বেরোনোর পর এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে। মুখ্যমন্ত্রী–‌পদের বাঁটোয়ারা নিয়ে বড় শরিকের সঙ্গে সমানেই চলছে শিবসেনার টানাহ্যঁাচড়া। উদ্ধব–‌পুত্র আদিত্য ঠাকরের জন্য আড়াই বছরের মুখ্যমন্ত্রিত্বের প্রস্তাব খারিজ করেছে বিজেপি। জল্পনাকল্পনা চলছিল, উপমুখ্যমন্ত্রী–‌পদ আর বাড়তি কিছু মন্ত্রক দিয়ে শিবসেনাকে সামলে নেবে বিজেপি। কিন্তু শুক্রবার সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ফের কড়া বার্তা দেন শিবসেনা নেতা সঞ্জয় রাউত। তিনি বলেন, ‘‌উদ্ধব ঠাকরে বলেই দিয়েছেন, সেনা থেকেই মুখ্যমন্ত্রী হবে। এবং সেটা হবেই, লিখে নিন।’‌ পাশাপাশি তাঁর দাবি, ‘‌শিবসেনা সরকার গড়বে বলে সিদ্ধান্ত নিলেই প্রয়োজনীয় সংখ্যা পেয়ে যাবে।’‌
রাউত বলেন, ‘‌মহারাষ্ট্রের মানুষ ৫০–‌৫০ ফর্মুলার ভিত্তিতেই জনাদেশ দিয়েছেন। তার ফলাফল সামনেও এসেছে। রাজ্যবাসী চান মুখ্যমন্ত্রীই হোন শিবসেনা থেকেই।’‌ শিবসেনা থেকে অনেককেই মন্ত্রীর পদ দেওয়া হবে, এমনও নাকি প্রস্তাব দিয়েছিল বিজেপি। সে নিয়ে রাউতের মন্তব্য, ‘‌আমাদের নেতা–‌কর্মীরা কি ব্যবসায়ী?’‌ একটি কটাক্ষমিশ্রিত টুইটও করেন তিনি। কারও নাম উল্লেখ না করে সেখানে রাউত বলেন, ‘‌বেশি ঔদ্ধত্য ভাল নয়, সাহেব!‌ কালের সমুদ্রে কত আলেকজান্ডার তলিয়ে গেছেন!‌’‌
মহারাষ্ট্রে এবার ভাল ফল করেছে এনসিপি। কংগ্রেস এবং এনসিপি সমর্থন দিলে বিজেপি–‌কে বাদ দিয়ে সরকার গড়তেই পারে শিবসেনা। ২৮৮ আসনের বিধানসভায় বিজেপি পেয়েছে ১০৫টি আসন, শিবসেনা ৫৬টি। এনসিপি–‌র হাতে ৫৪ আসন, সঙ্গী দল কংগ্রেস ৪৪। সংখ্যার হিসেবে বিজেপি–শিবসেনা জোটের জয় স্পষ্ট মনে হলেও, দুই শরিকের দর–‌কষাকষিতে আটকে গেছে সরকার গড়া। রাজ্যের অর্থমন্ত্রী, বিজেপি নেতা সুধীর মুনগান্তিওয়ার এদিনই এক সাক্ষাৎকারে মনে করিয়ে দিলেন, ৭ নভেম্বরের মধ্যে সরকার গড়া না গেলে মহারাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতির শাসন জারি হতে পারে। তাঁর দাবি, দেওয়ালির জন্য শিবসেনার সঙ্গে কথাবার্তায় বিলম্ব হয়েছে। এবার দ্রুত মিটিয়ে নেওয়া হবে সমস্যা।‌‌‌‌‌

 

 

বৃষ্টিতে আঙুর চাষের সর্বনাশ। নাসিকে চাষিদের পাশে শারদ পাওয়ার। ছবি: পিটিআই

জনপ্রিয়

Back To Top