আজকাল ওয়েবডেস্ক: দিল্লির শাহিনবাগে গেলেন কাশ্মীরি পণ্ডিতরা।‌ এক হল ঘরছাড়ারা। এক হল স্লোগান। দুই ইতিহাসের অত্যাচারিত পক্ষেরা হাতে হাত মেলালেন। কিন্তু এতে বিপদে পড়ল বিজেপি। যে ইতিহাস নিয়ে এতদিন ধরে তারা রাজনীতি করছিল, আজ তা হাতছাড়া হয়ে গেল। ১৯৯০– এ কাশ্মীরে হিন্দুদের ওপর হওয়া অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হল শাহিনবাগের প্রতিবাদীরা। শাহিনবাগে আয়োজিত হল একটি সভা। সেখানে কথা বলতে এলেন দুই কাশ্মীরি পণ্ডিত। নাট্যবক্তিত্ব এমকে রায়না এবং পার্ফরমেন্স আর্টিস্ট ইন্দর সালিম। রায়না জানালেন, ‘শাহিনবাগের আন্দোলনকারীরা যে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের মর্মান্তিক ইতিহাসকে মনে করে আমাদের সঙ্গে দাঁড়াচ্ছেন তা থেকে এ কথা স্পষ্ট যে অত্যাচারিতই একমাত্র অত্যাচারিতের কষ্ট বোঝে। বিজেপির সদস্যরা কাশ্মীরি পণ্ডিতদের কথা বলছেন দেখে সেটা ভালই লাগছে, কিন্তু যেভাবে বলছেন সেটা ঠিক না।’‌ একদিকে যখন কাশ্মীরি পণ্ডিতরা হাত মেলাচ্ছেন অন্যদিকে তখন সেই হিংসার কথা আবার মনে করাতে বিধুবিনোদ চোপড়া বানিয়ে ফেললেন একটি ছবি। আর বক্তব্য রাখলেন সেই ইতিহাস নিয়ে। প্রশ্ন এখানেই, এই ছবির মাধ্যমে কি মুসলিম বিতাড়ণকে সমর্থন করতে চাইলেন?‌ 
সাল ১৯৯০। জানুয়ারি ১৯ ও ২০। চার লক্ষ কাশ্মীরি পণ্ডিতকে কাশ্মীরে নিজেদের বাসস্থান ছেড়ে চলে আসতে হয়েছিল হিংসার কারণে। এই ঘটনার ৩০ বছর হতে চলল। এই ঘটনার ভিত্তিতেই বিধুবিনোদ চোপড়ার নতুন ছবি ‘‌শিকারা’‌। রবিবার দিল্লিতে এই ছবির একটি বিশেষ প্রদর্শন হল। অনেক কাশ্মীরি পণ্ডিত ছবিটি দেখতে এসেছিলেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন আবার ছবিটি তৈরির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। পরিচালক এই ছবিটি উৎসর্গ করলেন তাঁর মাকে। তিনি জানালেন, তাঁর মা কাশ্মীরে তাঁর নিজের বাড়ি ফিরে যেতে পারেননি। শুধুমাত্র শিল্পের জন্য বানানো হয়নি এ ছবি, স্বীকার করলেন পরিচালক। কেন এই সময়ে এরকম একটি ছবি বানালেন যেখানে দুই সম্প্রদায়ের হিংসার কথা রয়েছে?‌ তিনি জানালেন, তিনি সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়াতে চান না এই ছবির মাধ্যমে। কিন্তু যাতে মানুষ তাঁদের বিরুদ্ধে ঘটা অন্যায়কে হিংসা করে, সেই কথাই বলতে চান।  ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top