আজকালের প্রতিবেদন: নরেন্দ্র মোদি সরকারের সঙ্গে কি দূরত্ব বাড়ছে সাধুসন্তদের? ইঙ্গিত কিন্তু তেমনই। সম্প্রতি যে কোনও ধর্মীয় অনুষ্ঠান লাইভ প্রদর্শনের ওপর কর বসিয়েছে কেন্দ্র। আস্থা–‌সহ বিভিন্ন ধর্মীয় চ্যানেলের কাছে পাঠানো সরকারি নির্দেশিকায় বলা হয়েছে সরাসরি কোনও ধর্মীয় অনুষ্ঠান সম্প্রচার করলেই দিতে হবে দিন প্রতি ১ লক্ষ টাকা। তাই সরকারের ওপর ক্ষোভ উগরে দিতে কসুর করছেন না সাধুরা। তাঁদের সকলেরই বক্তব্য, হিন্দুত্বের নামে ভোট নিয়ে হিন্দু ধর্মের বিনাশেই বেশি উৎসাহী হয়ে উঠেছে মোদি সরকার। অবিলম্বে এই কর প্রত্যাহার করা না হলে বড় আন্দোলন শুরু করবেন বলেও জানিয়েছেন সাধুসন্তরা। 
সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি সোচ্চার মুরারি বাপু। অবশ্য তার কারণও রয়েছে। ‘রামকথাকার’ নামে পরিচিত মুরারি বাপুর প্রায় সব অনুষ্ঠানই সরাসরি সম্প্রচার করে আস্থা চ্যানেল। বিশ্বের প্রায় ১৭০টি দেশে দেখানো হয় রামায়ণের নানা ঘটনার বিষয়ে ওই রামকথাকারের ব্যাখ্যা। কিন্তু সরকার দিন প্রতি এক লক্ষ টাকা কর হিসেবে জমা দিতে বলার পর থেকে মুরারি বাপুর নতুুন কোনও অনুষ্ঠানই আর দেখানো হচ্ছে না ওই চ্যানেলে। মুরারি বাপুর দাবি তাঁর কাছে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে লোকেরা ফোন করে জানতে চাইছেন রামকথা অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে কেন?
মুরারি বাপু বলেছেন, ‘‌সাধুসন্তদের সমর্থন ছাড়া এই দলের ক্ষমতায় আসা সম্ভব হত না। তাই সরকারের এমন সিদ্ধান্ত স্রেফ বিশ্বাসঘাতকতা। বাজেটে কর বসানোর অন্য কোনও উপায় না থাকাতেই কি কোপ পড়ল সাধুসন্তদের ওপর?’ কর বসানোর বিরোধিতায় মুরারি বাপুর দাবি, আস্থা চ্যানেলে তাঁর কোনও অনুষ্ঠানই সরাসরি সম্প্রচার করা হয় না। তাঁর প্রতিটি অনুষ্ঠানের সম্প্রচার আস্থা চ্যানেল শুরু করে আধ ঘণ্টা পর থেকে। তঁার পরামর্শ,‘‌এবারের বাজেটে মধ্যবিত্তদের জন্য কিছুই নেই। যা কিছু আছে তা হয় সমাজের একেবারে ওপর স্তরের মানুষদের জন্য, না হয় একেবারে নিচুতলার জন্য। তাই সেই ভুলটা সরকার যত তাড়াতাড়ি শুধরে নেবে ততই ভাল।’‌ 

জনপ্রিয়

Back To Top