আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ শনিবার বিকেল পাঁচটায় খুলছে কেরলের শবরীমালা মন্দির। ভগবান আয়াপ্পার এই মন্দিরে শুরু হতে চলেছে বার্ষিক মণ্ডল পুজো। ৪১ দিন ধরে চলবে এই উত্‍সব। প্রত্যেকবছরই এই অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। কিন্তু এবার পরিস্থিতি কিছুটা অন্যরকম। কারণ সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী, এবার থেকে সব বয়সের মহিলারাই শবরীমালায় প্রবেশ করতে পারবেন। আর এই নিয়েই চলছে বিতর্ক। এর মধ্যেই কেরল সরকার জানিয়ে দিয়েছে কোনও মহিলা বিশেষ করে সমাজসেবীদের জন্য কোনও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে না। 
জানা গিয়েছে শনিবার বিকেল ৫টা থেকে ভক্তদের জন্য খুলে দেওয়া হবে শবরীমালার দরজা। সরকারের তরফে প্রায় ১৫০ বাস চালু করা হয়েছে। শবরীমালা থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরের পাম্বা এবং নিলাক্কল থেকে এইসব সরকারি বাসে চড়েই মন্দিরে আসতে পারবেন ভক্তরা। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ এই মামলাকে সাত সদস্যের বৃহত্তর বেঞ্চে পাঠানর নির্দেশ দেয়। অবশ্য পুরনো রায়ের উপর কোনও স্থগিতাদেশও জারি করেনি সুপ্রিম কোর্ট। অর্থাত্‍ শবরীমালা মন্দিরে মহিলাদের প্রবেশের ক্ষেত্রে কোনও বাধা নেই। কিন্তু তারপরেও মহিলাদের নিরাপত্তা দিতে পারবে না বলেই জানিয়ে দেন কেরলের আইনমন্ত্রী এ কে বালান। তিনি বলেন, ‘‌সুপ্রিম কোর্টের এই রায় সরকারকে বিপাকে ফেলেছে। বর্তমানে শবরীমালা মন্দিরে মহিলাদের নিরাপত্তা দিতে পারবে না সরকার। কারণ কোনও নির্দিষ্ট রায় না আসার ফলে কোনও পথ সরকার অবলম্বন করবে তা বোঝা যাচ্ছে না।’‌ এর মধ্যেই অবশ্য পুনের সমাজসেবী ত্রুপ্তি দেশাই জানিয়েছেন, ‘‌২০ নভেম্বরের পর তিনি শবরীমালা দর্শনে যাবেন। কেরল সরকার নিরাপত্তা না দিলেও মন্দির দর্শন করবেন। 
আসলে রীতি অনুযায়ী, ভগবান আয়াপ্পা ব্রহ্মচারী। তাই শবরীমালায় ১০ থেকে ৫০ বছর বয়সি ঋতুমতী মহিলাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। বিশ্বাস ছিল, ঋতুমতী মহিলারা মন্দিরে প্রবেশ করলে মন্দিরের প্রধান বিগ্রহ আয়াপ্পার কৌমার্যব্রত ভেঙে যাবে। এই বিশ্বাসের বিরুদ্ধে গিয়ে মন্দিরে প্রবেশের অধিকার দাবি করেন মহিলারা। মানবশৃঙ্খল গড়ে শুরু হয় তুমুল বিক্ষোভ–আন্দোলন। মামলা গড়ায় দেশের শীর্ষ আদালত পর্যন্ত। অবসরের আগে তাঁর শেষ রায়ে প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র বলেছিলেন, লিঙ্গভিত্তিক যে বৈষম্য গড়ে উঠেছে শবরীমালার মন্দিরকে কেন্দ্র করে সেটা পুরোপুরি ভিত্তিহীন। সুপ্রিম কোর্ট এই অযৌক্তিকতাকে সমর্থন করে না। সংবিধানও এই লিঙ্গবৈষম্যের বিরুদ্ধে। মন্দিরের নিয়ন্ত্রক ত্রিবাঙ্কুরের দেবাস্বম বোর্ডও শীর্ষ আদালতের রায় মেনে নেয়। ফলে সব বয়সি মহিলারাই মন্দিরে ঢোকার প্রবেশাধিকার পেয়ে যান। তাই সব বয়সের মহিলারাই মন্দিরে ঢুকতে পারবেন।‌

জনপ্রিয়

Back To Top