আবু হায়াত বিশ্বাস,দিল্লি: ‌শাহিনবাগে রাস্তা আটকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রশ্নে কোনও সমাধানসূত্র বের  হল না। বৃহস্পতিবারও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বললেন সুপ্রিম কোর্টের নিয়োগ করা মধ্যস্থতাকারীরা। প্রথমে আইনজীবী সঞ্জয় হেগড়ে, সাধনা রামচন্দ্রন শাহিনবাগের আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁরা চলে যাওয়ার পরে সন্ধ্যা ছ’‌টা নাগাদ আর এক মধ্যস্থতাকারী ওয়াজাহাত হবিবুল্লা সেখানে পৌঁছন। 
এদিন সংবাদমাধ্যমকে বেরিয়ে যেতে বলেন মধ্যস্থতাকারীরা। আন্দোলনকারীদের আপত্তি ধোপে টেকেনি। গতকালই মধ্যস্থতাকারীরা জানিয়েছিলেন, আগামী রবিবার পর্যন্ত সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। সিএএ–বিরোধী আন্দোলনের জায়গা পরিবর্তনের কথা বোঝাবেন। কিন্তু আন্দোলনকারীরা শাহিনবাগের বদলে অন্য জায়গায় ধর্নায় বসতে রাজি হচ্ছেন না। 
এদিনও মধ্যস্থতাকারীদের সামনে পেয়ে শাহিনবাগের আন্দোলনকারীরা নিজেদের ক্ষোভ, যন্ত্রণা, উদ্বেগের কথা শোনান। মধ্যস্থতাকারীরা বলেন, ‘‌আপনারা মনে করছেন এখান থেকে ধর্নার জায়গা বদলে গেলে আপনাদের কথা কেউ শুনবে না। সেটা ঠিক নয়।’‌ সুপ্রিম কোর্টে আন্দোলনকারীদের পাশে থাকবেন বলে তাঁরা আশ্বাস দেন। 
এদিন দুপুরে শাহিনবাগে পৌঁছেই মধ্যস্থতাকারী সাধনা রামচন্দ্রন বলেন, ‘‌আমাদের মাথায় দাদিদের হাত রয়েছে। আন্দোলন চলুক, তবে তা অন্যের সমস্যার কারণ হয়ে উঠুক, তা সুপ্রিম কোর্টও চায় না। আন্দোলন সেখানে করুন যেখানে অন্যদের সমস্যার মুখে পড়তে হবে না। আমরা চাই শাহিনবাগের আন্দোলন গোটা দেশে দৃষ্টান্ত হয়ে উঠুক।’‌ মধ্যস্থতাকারীরা বলছেন, সুপ্রিম কোর্ট আপনাদের দিকে হাত বাড়িয়েছে। সিএএ, এনআরসি, এনপিআর মামলা ইতিমধ্যেই শীর্ষ আদালতে পৌঁছেছে। 
সাধনা রামচন্দ্রন তাঁদের বলেছেন, এমন কোনও সমস্যা নেই, যার সমাধান বের হয়নি। শাহিনবাগের সমস্যার সমাধান তো শাহিনবাগের মানুষই করবেন। পরে, আন্দোলন স্থলের রাস্তা ঘুরে দেখেন মধ্যস্থতাকারীরা। 

শাহিনবাগে সঞ্জয় হেগড়ে ও সাধনা রামচন্দ্রন। ছবি: পিটিআই

জনপ্রিয়

Back To Top