তরুণ চক্রবর্তী, (বদরপুর) অসম: অর্মত্য সেন, অভিজিৎ বিনায়ক ব্যানার্জির পর মাদার টেরিজাকে কদর্য ভাষায় আক্রমণ গেরুয়া শিবিরের। অসমে আরএসএস নেতা রঞ্জিব শর্মার অভিযোগ, মাদার টেরিজার সঙ্গে ইয়োরোপ ও আমেরিকার ড্রাগ মাফিয়াদের সম্পর্ক ছিল। শুক্রবার গুয়াহাটি থেকে প্রকাশিত তাঁর বই ‘বৌদ্ধিক সন্ত্রাস’–‌এ টেরিজাকে ‘প্রতারক’ বলে বর্ণনা করে অভিযোগ করা হয়, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পাচারে যুক্ত ছিলেন তিনি। ৭টি প্রবন্ধ আছে বইটিতে।  বলা  হয়েছে, ১৯৫০ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে ভারতে কম করে ৫০০ বৈজ্ঞানিক খুন হয়েছেন। সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্পে ভরা বইটিতে বিশ্ববন্দিত ‘সেন্ট’ মাদার টেরিজা সম্পর্কে বলা হয়, ‘সেবা নয়, খ্রিস্টানদের ভাবমূর্তি গঠনই ছিল তাঁর লক্ষ্য। সেই ভাবমূর্তি ভাঙিয়ে টাকা রোজগারের পাশাপাশি ছিল হিন্দুদের খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরকরণ।’ গুয়াহাটির পান বাজারের এমআর পাবলিকেশন থেকে প্রকাশিত বইটিতে বলা হয়েছে, কুষ্ঠ রোগাক্রান্ত রোগীদের ভিক্ষে করিয়ে সেই অর্থ বিদেশে রবার্ট ম্যাক্সওয়েলের কাছে পাঠাতেন টেরিজা। আবার ইওরোপ ও আমেরিকার মাদক কারবারিদের কাছ থেকে অর্থ এনে তা ভারতীয় টাকায় বদল করতেন। রাঁচির ‘নির্মল হৃদয়’ নিয়েও কটাক্ষ করেছেন। অসমের বিশ্বনাথ চারিয়ালির বাসিন্দা রঞ্জিব নিজেকে অসমে আরএসএস–‌এর ‘সম্পর্ক প্রমুখ’ বলে দাবি করেন।  জানান, তাঁর বই তথ্যের ভিত্তিতে লেখা। এবিষয়ে প্রকাশ্যে বিতর্কে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন কংগ্রেসি ও বামপন্থীদের। তাঁর অভিযোগ, ভারতীয় বিজ্ঞানীদের মার্কিন ও রুশ গোয়েন্দারা খতম করলেও নীরব থেকেছে কংগ্রেস। বামেরা সেই খুনকে সমর্থন করেছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন। রঞ্জিব নিজেই তাঁর বই নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা পাঠান। সেখানে উল্লেখ করা হয় বিভিন্ন বিদেশি মিডিয়ার কথাও। তাঁর পাঠানো তথ্য অনুযায়ী বইটিতে রয়েছে, বিজ্ঞানী হত্যার কাহিনী, ইয়োরোপ–‌আমেরিকার ড্রাগ মাফিয়াদের সঙ্গে টেরিজার সম্পর্কের বর্ণনা, মিশনারিজ অফ চ্যারিটির শিশু সরবরাহ, গণধোলাইয়ের আড়ালে থাকা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ইত্যাদি। বইটি প্রকাশ হতেই অসমে নিন্দার ঝড় বইছে। বিভিন্ন সংগঠনের তরফে বইটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবি উঠেছে। রঞ্জিব অটল। তাঁর পাল্টা দাবি, ‘লিখুন না। কিস্‌সু হবে না। প্রমাণ আছে।’ এর আগে মহিলাদের সঙ্গে তাঁর ফোনে অশালীন কথাবার্তার প্রমাণও সামাজিক গণমাধ্যমে ভাইরাল হয়। কিন্তু ‘সুশৃঙ্খল’ সঙ্ঘ পরিবার ব্যবস্থা নেয়নি।

জনপ্রিয়

Back To Top