আজকাল ওয়েবডেস্ক: মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান গ্যারান্টি প্রকল্পে অতিরিক্ত ৪০,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করল কেন্দ্র। রবিবার সকালে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এই ঘোষণা করলেন। তিনি বলেছেন, ‌‘‌বহু পরিযায়ী শ্রমিক নিজেদের বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। এই অতিরিক্ত ৪০,০০০ কোটি শ্রমিকরা নিজেদের রাজ্যে ফিরলেও তাঁদের হাতে কাজ দেবে। এর ফলে আরও কর্মসংস্থান বাড়বে এবং বর্ষার সময় তাঁরা হাতে কাজ পাবেন।’‌ 
নির্মলা বললেন, ২০ লক্ষ কোটি টাকার এই পঞ্চম প্যাকেজে মূলত সাতটি দফার দিকে নজর দেওয়া হবে। তার মধ্যে যেমন আছে ‌গ্রামীণ কর্মসংস্থান, তেমনই ব্যবসায়িক নীতি শিথিল করা হয়েছে, মালিকপক্ষদের বিরুদ্ধে যে সব বিষয়ে ফৌজদারি মামলা করতে পারতেন শ্রমিকরা সেই আইনও শিথিল করা হয়েছে। 
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা, সব জেলা হাসপাতালগুলিতে সংক্রামক রোগের চিকিৎসার জন্য পৃথক জায়গা তৈরি করা হবে। গ্রামে যেহেতু গবেষণাগার তৈরির সমস্যা আছে তাই সব ব্লক স্তরে সরকারি স্বাস্থ্য ল্যাবরেটরি তৈরি করা হবে। ক্লিনিক এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে তৃণমূল স্তর থেকে বিনিয়োগ করা হবে। শুধু সরকারি নয়, বেসরকারি হাসপাতালদেরও অর্থ বরাদ্দ করা হবে। 
মহামারী থেকে শিক্ষা নিয়ে এমাসের শেষ দিন থেকে দেশের সেরা ১০০টা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বয়ংক্রিয় অনলাইন পাঠ্যক্রম চালু হবে প্রধানমন্ত্রী বিদ্যা কর্মসূচির অন্তর্গত হিসেবে। দৃষ্টিহীন এবং মূক–বধির ছেলেমেয়েদের জন্য রেডিও–তে বিশেষ অনুষ্ঠান করা হবে। এমনকি লকডাউনে মানসিক চাপে থাকা ছাত্রছাত্রীদের চিন্তামুক্ত করতেও মনোবিদ্যার দিকে নজর দেবে কেন্দ্র।
যেসব ব্যবসাদাররা কোভিড–১৯–এর জন্য আতান্তরে পড়েছেন, তাঁদের ঋণ বকেয়া হিসেবে ধরা হবে না। একবছরের জন্য ওই সব কোম্পানিগুলির বিরুদ্ধে এব্যাপারে পদক্ষেপ করা হবে না। ধার শোধ এবং দেউলিয়া আইনের ২৪০এ ধারা অনুযায়ী, ছোট এবং ক্ষুদ্র শিল্পগুলিকে দেউলিয়া ঘোষণার সীমা এক লক্ষ থেকে এক কোটি পর্যন্ত করা হল। সংসদের আগামী অধিবেশনেই এই অর্ডিন্যান্স জারি হবে। বলেছেন সীতারামন।
এছাড়া ২০২০–২১ অর্থবর্ষে, রাজ্যগুলির গড় ঘরোয়া উৎপাদন বা জিএসডিপি–এর উপর কেন্দ্র থেকে রাজ্যের ধারের বরাদ্দ তিন থেকে বাড়িয়ে পাঁচ শতাংশ করল কেন্দ্র। এর ফলে রাজ্যগুলির হাতে অতিরিক্ত ৪.‌২৮ লক্ষ কোটি টাকা আসবে। মন্ত্রী বললেন, ‘‌এবছরের মার্চ পর্যন্ত রাজ্যগুলিকে ৭৫ শতাংশ ধার করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। এপর্যন্ত তারা ১৪ শতাংশ ধার করেছে এবং আরও ৮৬ শতাংশ এখনও বাকি আছে।’‌   
কোভিড–১৯–এর ধাক্কায় টালমাটাল অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সামলাতে নাজেহাল কেন্দ্রীয় সরকার। একাধিক প্যাকেজ ঘোষণা করলেও দেশের কয়েক কোটি পরিযায়ী শ্রমিক বা হতদরিদ্র মানুষদের হাতে টাকা পৌঁছয়নি। সেজন্য বিরোদী এবং অর্থনীতিবিদদের কাছে সমালোচিতও হতে হচ্ছে। সেই ফাঁক পূরণ করতেই এদিনের কেন্দ্রীয় পদক্ষেপ বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
ছবি:‌ এএনআই 

জনপ্রিয়

Back To Top