আজকালের প্রতিবেদন, দিল্লি: ভোট শেষ হতেই রবার্ট ভদ্র–র বিরুদ্ধে ফের তৎপর ইডি। কালো টাকা সাদা করার একটি মামলায় ভদ্র–কে মঞ্জুর করা আগাম জামিন নাকচ করার জন্য তারা দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হল। প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর স্বামী রবার্টের বিরুদ্ধে লোকসভা ভোটের ঠিক আগেই অতি সক্রিয় হয়ে উঠেছিল অর্থনৈতিক অপরাধের তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট, বা ইডি। ঠিক যেভাবে সোনিয়া এবং কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলা খুঁচিয়ে তোলা হয়েছিল ভোটের আগে, সম্ভাবনা ছিল যে গ্রেপ্তার করা হতে পারে রবার্ট ভদ্র–কে। ট্রায়াল আদালতে গিয়ে জামিনের আবেদন করেন ভদ্র এবং ১ এপ্রিল সেই আবেদন মঞ্জুর হয়। ইডি–র উকিল ডি পি সিং শুক্রবার হাইকোর্টে বললেন, ভদ্র–কে ছেড়ে রাখা এই মামলার তদন্তের উদ্দেশ্যের পরিপন্থী হয়ে যাচ্ছে। ভদ্র–র মালিকানায় থাকা ‘‌স্কাইলাইট হসপিটালিটি’‌ সংস্থার কর্মী ও এই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত মনোজ অরোরার আগাম জামিনেরও বিরোধিতা করেছে ইডি। সম্ভবত সোমবার এই দুটি আর্জির শুনানি হবে।
লন্ডনে ১৯ লক্ষ পাউন্ড দিয়ে একটি ফ্ল্যাট কেনার সময় নিজের কালো টাকা সাদা করার এই অভিযোগ আনা হয়েছে রবার্ট ভদ্র–র বিরুদ্ধে। ৭ এবং ৮ ডিসেম্বর ভদ্রর দপ্তরে তল্লাশি চালিয়ে ইডি অফিসারেরা প্রায় ২০ হাজার পাতার নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করে। ১ ফেব্রুয়ারি আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেন ভদ্র। ৬ ফেব্রুয়ারি তঁাকে তদন্তে সহযোগিতার নির্দেশ দেয় ইডি। এই সবকটি বিষয় মাথায় রেখেই ভারপ্রাপ্ত আদালত এই মামলায় ভদ্র–র আগাম জামিন মঞ্জুর করে এই শর্তে, যে তদন্ত চলাকালীন ভদ্র দেশ ছেড়ে কোথাও যেতে পারবেন না। কিন্তু তাতে আপত্তি জানিয়ে ইডি বলে, ভদ্রকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করার প্রয়োজন আছে। পাল্টা সওয়ালে ভদ্র আইনজীবী মারফত আদালতকে জানান, তঁাকে ‘‌অপ্রয়োজনীয়, অন্যায় এবং বিদ্বেষপূর্ণ ফৌজদারি মামলা’‌র শিকার হতে হচ্ছে, যা স্পষ্টই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আইনে যা বিধান আছে, তা অতিক্রম করে তঁাকে হয়রান করার চেষ্টা হচ্ছে।

জনপ্রিয়

Back To Top