আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ সুশান্তের টাকা তিনি নয়ছয় করেছেন। পরিবারের থেকে আলাদা করে দিয়েছেন। অভিনেতাকে অবসাদের দিকে ঠেলে দিয়েছেন। প্রেমিকা রিয়া চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে এসবই অভিযোগ তুলেছেন সুশান্তের বাবা কেকে সিং। তাঁর দিদি আবার অভিযোগ তুলেছেন, রিয়া নাকি সুশান্তের ওপর ‘‌ডাইনিবিদ্যা’‌ প্রয়োগ করতেন। 
এর পরেই রিয়াকে ট্রোল করা শুরু হল সোশ্যাল সাইটে। তাঁকে জড়িয়ে সব বাঙালি মেয়েদেরই কাঠগড়ায় তোলা হল। কোণঠাসা করার চেষ্টা হল টুইটারে। বলা হল, বাঙালি মেয়েরা নাকি এমনই!‌ নিজেদের কেরিয়ার গড়তে বড়লোক কোনও ছেলেকে ‘‌ফাঁসিয়ে’‌ নেয়। তাঁদের নিজের অধীনে রেখে দেয়। কেউ আবার ‘‌গ্যাংস অফ ওয়াসিপুর’‌ ছবির দুর্গা চরিত্রের সঙ্গে তুলনা করলেন রিয়াকে, যে নিজের প্রেমিককে ঠকিয়েছিল। খুন পর্যন্ত করতে দ্বিধা করেনি।
অভিযোগকারীরা সকলেই কিন্তু অবাঙালি। আর সেই নিয়ে আবার তাঁদের দিকে আঙুল তুলল বাঙালিরা। এও কেউ কেউ বললেন, যে বাঙালি বলেই রিয়াকে ফাঁসানো হয়েছে। ফাঁসিয়েছে বিহারিরা। অনেকে আবার সবের নেপথ্যে বিজেপি–র হাত দেখলেন। বললেন, এভাবে বাঙালিকে নিচু দেখিয়ে বাংলায় আধিপত্য বিস্তারের রাজনীতি করছে বিজেপি। অনেকে আবার এর মধ্যে তৃণমূল–বিজেপি–র দড়ি টানাটানি দেখেছেন। মোট কথা, সুশান্তের মৃত্যু এখন রাজনীতিকদের হাতের বোড়ে ছাড়া কিছু নয়। অভিনেতা কোয়েনা মিত্র আবার এর পিছনে রাজনীতির রং দেখতে চাইছেন না। তাঁর কথায়, ‘‌ফাঁসানো হয়েছে!‌ আঞ্চলিক রাজনীতি!‌ ও বাঙালি কিনা কেউ ভাবে না। এসব বলে একজন উচ্চাকাঙ্ক্ষীকে দোষ ঢাকতে সাহায্য করা আরও বড় অপরাধ।’‌ 
বর্খা ত্রেহান নামে একজন লিখলেন, ‘‌বাঙালি মেয়েরা খুব ডমিনেটিং। ওরা জানে কীভাবে ছেলেদের নিজের প্রেমে ফেলতে হয়। ওরা বড় মাছ ধরে। সুপুরুষ, অর্থবান। যদি ওদের চাকপ হতে চাও, টাকার জোগানদার হতে চাও, নিজের পরিবার ছেড়ে ওদের পরিবারে থাকতে চাও, তাহলে চালিয়ে যাও।’ এক জন আবার তুলে আনলেন ইন্দ্রাণী মুখার্জির প্রসঙ্গ। বললেন, সব বাঙালি মেয়ে আসলে এ রকমই হয়।‌ প্রত্যুত্তরে অনেকে লিখেছেন, বাঙালি মেয়েরা স্বাধীনচেতা। স্বনির্ভর। এটাই সহ্য করতে পারে না অবাঙালিরা। মোটমাট সুশান্তের মৃত্যু মামলার জেরে বাঙালি–অবাঙালি দ্বন্দ্বই প্রকট হয়ে উঠল।  

জনপ্রিয়

Back To Top