আজকালের প্রতিবেদন, দিল্লি: সাত বছর আগে দুর্নীতির দায়ে বহিষ্কৃত কর্ণাটকের রেড্ডিভাইদের আবার দলে ফেরাতে চলেছে বিজেপি। করণাকর রেড্ডিকে বিজেপি প্রার্থী করতে চলেছে দেবনগিরির হড়প্পানাহল্লি কেন্দ্রে। আরেক ভাই সোমশেখর রেড্ডি দাবি করেছেন, তাঁকে বেল্লারি শহর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্বয়ং বি এস ইয়েদুরাপ্পা। তবে রেড্ডি ভাইদের মধ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী জনার্দন রেড্ডিকে প্রার্থী করা হবে কিনা তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছে বিজেপি। খনি দুর্নীতি মামলার অন্যতম অভিযুক্ত জনার্দন বর্তমানে জামিনে মুক্ত। তবে জামিনের শর্ত অনুযায়ী জনার্দন বেল্লারিতে প্রবেশ করতে পারবেন না। তাঁকে কোন কেন্দ্রে প্রার্থী করা হবে তা নিয়ে চিন্তায় বিজেপি। তবে বিজেপি তাঁকে প্রার্থী করলে বেল্লারি–‌সহ গোটা রাজ্যেই কংগ্রেসকে নিশ্চিহ্ন করে দেবেন বলে দাবি করেছেন জনার্দন। তাঁর সমর্থনে ইতিমধ্যেই মুখ খুলেছেন বিশ্বস্ত সহযোগী এবং বিজেপি সাংসদ বি শ্রীরামালু। তাঁর কথায়, রেড্ডি ভাইদের দলে ফেরালে বেল্লারি জেলার ৯টি আসনই হাতে এসে যাবে। 
কর্ণাটকে গত বিধানসভা নির্বাচনে খনি দুর্নীতি এক বড় ইস্যু ছিল। চাপে পড়ে বিজেপি জনার্দন রেড্ডিকে দল থেকে সরিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায়নি। বেল্লারি জেলার সব কটি আসনই কংগ্রেসের পক্ষে গিয়েছিল। এবারও যাতে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয় তা সুনিশ্চিত করতে বিজেপি অনেক আগে থেকেই আসরে নেমেছে। কিন্তু মুশকিল হচ্ছে ওই কেন্দ্রগুলিতে কংগ্রেসকে চ্যালেঞ্জ জানাতে সক্ষম উপযুক্ত প্রার্থীর সন্ধান বিজেপি পায়নি। তাই দুর্নীতির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও রেড্ডিভাইদের ওপরই ভরসা করতে হচ্ছে বিজেপি–‌কে। কিন্তু এর প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে, তা নিয়ে চিন্তাও রয়েছে দলে। বিজেপি–‌র এক মহল মনে করছে, রেড্ডিভাইদের দলে নিলে বেল্লারিতে ফল ভাল হলেও, রাজ্যের অন্য অংশে বিরূপ প্রভাব পড়বে। কংগ্রেসের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলার বিষয়েও দলকে পিছু হটতে হবে। কারণ বিজেপি প্রার্থী করবে এমন এক পরিবারের সদস্যদের, যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের সিবিআই তদন্ত করছে। কিন্তু দলের অপর অংশের মতে, খনি দুর্নীতি এখন অতীত। সিদ্দারামাইয়া সরকারের আমলেও একই ধরনের দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে। মাইসোর মিনারেলস লিমিটেডে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বিজেপি–‌র কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব জানিয়েছে, কাকে দলে নেওয়া হবে বা কাকে টিকিট দেওয়া হবে, এই বিষয়ে রাজ্য শাখার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। একান্ত প্রয়োজন না পড়লে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব হস্তক্ষেপ করে না। বেল্লারি ভাইদের খুব কাছের লোক বলে পরিচিত বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ এই বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন। জানা গেছে, রেড্ডিভাইদের বিষয়ে ইয়েদুরাপ্পা কথা বলেছেন অমিত শাহের সঙ্গে। অমিত শাহ নাকি ওই বর্ষীয়ান নেতাকে পরামর্শ দিয়েছেন সব কিছু খতিয়ে দেখে তবেই সিদ্ধান্তে পৌঁছোতে।   

জনপ্রিয়

Back To Top