আজকাল ওয়েবডেস্ক: একটা গান আছে, ‘তু না জানে আসপাস হে খুদা…’ ২০১০ সালে ‘আনজানা আনজানি’ ছবিতে রাহাত ফতে আলি খান গেয়েছিলেন। দিল্লিতে থাকা ফুটপাথবাসীদের কাছে তেমনই খুদা বা ঈশ্বর হলেন ‘রাসোই অন হুইল’–এর সদস্যরা। কারা তাঁরা? কী বা করেন, যে একেবারে ঈশ্বরের মর্যাদা পাচ্ছেন? আজ থেকে পাঁচ বছর আগে তিনজনের উদ্যোগে চালু হয়েছিল এই ‘রাসোই অন হুইল’। তখন গাড়িতে করে ঘুরে ঘুরে দিল্লির ভবঘুরে থেকে ফুটপাথবাসী, সব মিলিয়ে মোট ৫০ জনকে খাবার দিতেন তাঁরা। আর এখন ১৫০০ মানুষের মুখে খাবার তুলে দেন ওঁরা। দিল্লি এবং গুরগাঁওয়ের এতগুলো গরিব মানুষ এখন জানেন তাঁদের খাবারের জন্য এর তার কাছে মুখ ঝামটা খেতে হবে না। আর তাঁরা যে খাবার পান, সেগুলো সব টাটকা , ভালো করে প্যাক করা থাকে। এমনকি তাঁদের আজকাল আর সন্তানদের নিয়েও বিশেষ ভাবতে হয় না। অনেকেই যাঁরা শিশুদের স্কুলে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছিলেন খাবার চিন্তায়, অর্থ যোগাড় করার চিন্তায়, তাঁরাই আবার বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন। নিজেরা যাঁরা ভিক্ষা করতেন সিগন্যালে সিগন্যালে, তাঁরা ফুল বা অন্য কিছু বিক্রি করছেন আজকাল। নিজেদের সুস্থ জীবনযাপনে নজর দিচ্ছেন।
মনিকা বাধওয়ার বলছেন যখন তিনজনে মিলে শুরুটা করেছিলেন, ভাবতে পারেননি এভাবে এগিয়ে যেতে পারবেন। এখন অনেকেই তাঁদের কথা জানেন। বস্তিগুলোতে গিয়ে তাঁরা নজর রাখেন কার কার কতটা প্রয়োজন। ভোর তিনটে থেকে তাঁরা রান্না শুরু করেন প্রতিদিন। সকাল ন’টায় পরিষ্কার খাবারের প্যাকেট গাড়িতে করে নিয়ে বেরিয়ে পড়েন তাঁরা। টাটকা খাবারগুলো মানুষের হাতে তুলে দিতে পারলে, যে নির্মল হাসিটা পাওয়া যায় তার কোনও পরিপূরক নেই বলেই জানাচ্ছেন মনিকা।
সাধারণত খাবারের প্যাকেটে থাকে ভাত, সব্জি, চাপাটি, ডাল, মিষ্টি। তবে কখনও বিশেষ দিন হলে সেখানে হালুয়া পুরি, নুডল, মাফিন, চকোলেট, কেকও দেওয়া হয়। মনিকা বলছেন শুরুর দিন থেকে এখনও তাঁদের কোনওদিন অর্থাভাব হয়নি। বহু মানুষ এই ‘রাসোই অন হুইল’–এর কথা জেনে নিজেরাই এগিয়ে আসেন, আর্থিক সাহায্য করেন। ১০০ জনের খাবার বানাতে মোটামুটি খরচ হয় ৩৫০০ টাকা। সংস্থার সদস্যদের আশা, আগামিদিনে পাঁচ থেকে সাত হাজার মানুষকে তাঁরা খাবার খাওয়াতে পারবেন। দিল্লি এবং গুরগাঁওয়ের মানুষজন কতটা তাঁদের ‘ঈশ্বর’দের পাশে পান ভবিষ্যতে, সেটাই এখন দেখার।‌

জনপ্রিয়

Back To Top