আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ অবসরের তিনদিনের মাথায় দিল্লির লুটিয়েন্সে নিজের সরকারি বাংলো খালি করলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জন গগৈ। এত তাড়াতাড়ি সরকারি বাংলো ছাড়েননি কোনও অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। সাত দিনে বাংলোর পাট গুটিয়েছিলেন আরেক প্রাক্তন বিচারপতি জে এস কেহর। সরকারিভাবে অবসরের একমাসের মধ্যেই খালি করে দিতে হয় বাংলো। ১৭ নভেম্বর দেশের প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসর নিয়েছেন রঞ্জন গগৈ।
নাগরিকপঞ্জি থেকে শুরু করে রাম মন্দির মামলায় রায় ঘোষণা। একের পর এক বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে ভারতীয় বিচারব্যবস্থায় প্রবাদপ্রতিম হয়ে গিয়েছেন গগৈ। ২০০১ সালে দিল্লি হাইকোর্টে ছিলেন তিনি। তারপর ২০১১ সালে তিনি পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি নিযুক্ত হন। ২০১২ সালের এপ্রিলে তিনি সুপ্রিম কোর্টে যোগ দেন। শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি হওয়া তাঁর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করে। দেশের ৪৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হন গগৈ। মোট ১৩ মাস সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ছিলেন তিনি। 
বিচারপতি দীপক মিশ্রর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সিনিয়রিটির বিচারে রঞ্জন গগৈয়েরই দায়িত্ব নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু উত্তরাধিকার হিসেবে দীপক মিশ্র একজন ‘বিদ্রোহী’–কে বাছবেন কিনা তা নিয়ে সন্দীহান ছিলেন অনেকে। যদিও সবাইকে চমকে দিয়ে গগৈকেই উত্তরাধিকারি ঘোষণা করেছিলেন বিচারপতি মিশ্র। দীপক মিশ্রর সুপারিশ মেনেই গগৈকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তারপর একের পর এক বড় রায় দিয়ে নজির গড়েন তিনি। তবে তাঁকে নিয়ে বিতর্কও কিছু কম হয়নি। কয়েকদিন আগেই যৌন হেনস্থার মামলায় তাঁর নাম জড়িয়ে পড়ে। তবে শীর্ষ আদালতের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি তাঁকে ক্লিনচিট দেওয়ায় বিতর্ক বেশি দূর গড়ায়নি।

জনপ্রিয়

Back To Top