আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ এরকম স্বঘোষিত ধর্মগুরু বোধহয় খুব কমই আছেন। যাঁরা গেরুয়া বস্ত্র নয়, বরং বিভিন্ন রঙের ঝকমকি পোশাক পরেন। ডেরা সচ্চা সৌদা প্রধান গুরমিত রাম রহিম সিংও ছিল তাঁদের মধ্যে একজন। রাম রহিমের ভক্তরা তাকে ‘‌রকস্টার বাবা’‌ এবং ‘‌গুরু অফ ব্লিং’‌ বলে ডাকত। কিন্তু জেলে থাকার পর তার চেহারার আমূল পরিবর্তন হয়েছে। দেখে বোঝা যাচ্ছে এই সেই ‘‌রকস্টার বাবা’‌। শুক্রবার হরিয়ানায় সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতে সাংবাদিক রাম চন্দর ছত্রপতি খুনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত করা হয় রাম রহিমকে। জেল থেকেই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তাকে আদালতে পেশ করা হয়। 
রাম রহিমের দাড়িতে পাক ধরেছে, মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গিয়েছে। তাকে চিনতেই পারছে না অনেকে। জানান নিহত সাংবাদিকের ছেলে অংশুল। ২০০২ সালের অক্টোবরে সিরসাতে নিজের বাড়ির বাইরে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান রাম চন্দর। রাম রহিমের বিরুদ্ধে লেখা সংবাদ প্রকাশের পরই এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় আদালত রাম রহিম সহ তিনজনকে দোষী সাব্যস্ত করে এবং এই ঘটনায় মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসাবে ছিল ডেরা প্রধান। অংশুল জানান, আদালতের রায় শুনে যখন তাঁর পরিবারের সদস্যদের চোখ জলে ভরে গিয়েছিল তখন রাম রহিম রায় শোনার পর বিস্মিত হয়ে যায়। তবে এখনও আদালত সাজা শোনায়নি, যা ১৭ জানুয়ারি শোনাবে বলে জানা গিয়েছে।
২০১৭ সালের আগস্টে ধর্ষণ মামলায় জেলে যাওয়ার আগে রাম রহিম পরিচিত ছিল তাঁর শৌখিন জীবনযাত্রা, বাইকের প্রতি ঝোঁক, তার মিউজিক ভিডিও, তার পরিচালিত ও অভিনীত ছবির জন্য। একমুখ দাড়ি নিয়ে রাম রহিম যখন হাসতেন, সেই হাসি দেখার জন্য ভিড় জমে যেত ভক্তদের। কিন্তু এখন সবই অতীত। পাকা দাড়ির আড়ালে ফ্যাকাসে মুখ নিয়ে জেলেই দিন কাটাতে হচ্ছে তাকে। সিবিআই ইতিমধ্যেই তার টুইটার অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দিয়েছে। গুরমিত রাম রহিমের বিরুদ্ধে তার ৪০০ জন অনুরাগীকে জোর করে নপুংসক বানিয়ে দেওয়ার ও ২০০২ সালে ডেরার ম্যানেজার রঞ্জিত সিং খুনের মামলা চলছে।            

জনপ্রিয়

Back To Top