আজকাল ওয়েবডেস্ক:মারা গেলেন প্রাক্তন সমাজবাদী পার্টি বা সপা নেতা তথা রাজ্যসভার সাংসদ অমর সিং।  মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৬৪ বছর। যকৃৎ বা কিডনিজনিত সমস্যায় ২০১৩ থেকেই ভুগছিলেন তিনি। গত মার্চে সিঙ্গাপুরে গিয়ে অস্ত্রোপচারও করিয়েছিলেন এককালে রাজনৈতিক মহলের এই দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা। শনিবার হাসপাতালের আইসিইউ–তে মৃত্যু হয় তাঁর। শেষ সময়ে পাশে ছিল পরিবার। এদিন সকালেই ইদুজ্জোহা এবং বাল গঙ্গাধর তিলকের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সমর্থকদের টুইটারে শুভেচ্ছা জানান তিনি।
২০০৮ সালে আমেরিকার সঙ্গে পরমাণু চুক্তি ইস্যুতে সিপিএম তৎকালীন ইউপিএ সরকারের উপর থেকে সমর্থন তুলে নিলে সেসময় অমর সিং–এর নেতৃত্বেই সপা সমর্থন করেছিল ইউপিএ–কে। যার ফলে তখনকার মতো রক্ষা পেয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। একসময় সপা সুপ্রিমো মুলায়ম সিং যাদবের পরই উচ্চারিত হত অমর সিং–এর নাম। কিন্তু পরে মুলায়মের সঙ্গে মতান্তর চরমে উঠলে, ২০১০–এর ৬ জানুয়ারি সপার সব পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। এবং তারপর দলবিরোধী কাজকর্মের জন্য সপা থেকে বহিষ্কৃত হন অমর সিং এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ জয়া প্রদা। যদিও কখনও মুলায়মের নামে অপবাদ দেননি, বরং প্রশংসাই করেছিলেন অমর সিং। তবে সপা ছাড়ার পর, আর সেভাবে রাজনৈতিক পরিচিতি গড়ে তুলতে পারেননি অমর সিং। ২০১১ সালে নিজের দল গড়েন। ২০১২–য় উত্তর প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী দিলেও কেউ জেতেননি। এরপর ২০১৪–য় অজিত সিং–এর আরএলডি–তে যোগ দেন। তবে তিনি কখনও আর সপায় ফিরবেন না বলে কড়াভাবে জানিয়েছিলেন।
তাঁর প্রভাবেই এককালে কংগ্রেস–ঘনিষ্ঠ বচ্চন পরিবার সপার পক্ষে চলে আসে। অমর সিং–এর তৎপরতাতেই সপার টিকিটে রাজ্যসভার সদস্য হন জয়া বচ্চন। কিন্তু ২০১৬–য় সেই জয়ার নামেই জনসমক্ষে অভিযোগ করায় বচ্চন পরিবারের সঙ্গেও দূরত্ব তৈরি হয়েছিল অমর সিং–এর। যদিও এবছরের ফেব্রুয়ারি–তে অমিতাভের বাবা হরিবংশ রাই বচ্চনের মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানিয়ে নিজের আচরণের জন্য বচ্চনদের কাছে ক্ষমাও চেয়েছিলেন এককালের দাপুটে নেতা।  

জনপ্রিয়

Back To Top