আবু হায়াত বিশ্বাস,দিল্লি: রেল বাজেট নিয়ে কেন্দ্রকে বিঁধল কংগ্রেস ও তৃণমূল। মোদি সরকারের বিরুদ্ধে রেলের সম্পদ বেচে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ করল কংগ্রেস। বাস্তবের মাটিতে পা না–রেখে সরকার শুধু স্বপ্ন বিক্রি করছে বলে অভিযোগ করলেন লোকসভায় কংগ্রেস দলনেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরি। অন্যদিকে তৃণমূল সাংসদ সুদীপ ব্যানার্জি বলেন, বুলেট ট্রেন প্রকল্প ভারতে সম্ভব নয়। যা হচ্ছে তা আসলে উচ্চ গতিসম্পন্ন ট্রেন, বুলেট ট্রেন নয়। সরকারের আরও একটি ধোঁকা!‌ মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ছাড়া কিছু নয়। 
লোকসভায় তৃণমূল দলনেতা  সুদীপ ব্যানার্জি বলেন, ট্রেন যাত্রা হওয়া উচিত আনন্দের, ভয়ের নয়। অন্তর্বর্তী বাজেট এবং সাধারণ বাজেট রেলওয়ে সেক্টরে কোনও সাহায্য করেনি বলে মনে করেন রেলওয়ে স্ট্যান্ডিং কমিটির প্রাক্তন চেয়ারম্যান। রেলের কোচ ফ্যাক্টরিগুলির জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ করা হয়নি। ৭৬০ কোটির প্রস্তাবিত রেল প্রকল্পে বরাদ্দ হয়েছে মাত্র ৩০ লক্ষ টাকা!‌ বাংলার প্রতি বঞ্চনা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সুদীপ। বলেন, দক্ষিণের রাজ্যগুলিও একইভাবে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার শিকার। রেলের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও পরিকাঠামো উন্নয়নে মালদা, ডানকুনি, বেলেঘাটা ট্র‌্যাক ট্রেনিং–এর জন্য সব মিলিয়ে বরাদ্দ হয়েছে ৫ লক্ষ টাকা। ইস্ট–‌‌ওয়েষ্ট মেট্রো প্রকল্পের কাজ এখনও শেষ হয়নি। রেলে অনুদান বৃদ্ধির দাবি জানান তিনি। 
উল্লেখ্য, এবারের বাজেটে কলকাতা মেট্রো রেলে বরাদ্দ শূন্য। ব্রেথওয়েট লিলুয়া কোচ ফ্যাক্টরি, কাঁচরাপাড়া প্রকল্পে বরাদ্দ হয়েছে ১ হাজার টাকা। তৃণমূল সাংসদ বলেন, মমতা ব্যানার্জি রেলমন্ত্রী থাকাকালীন ১ টাকাও রেল ভাড়া বৃদ্ধি হয়নি। দারিদ্র‌্য সীমার নীচে থাকা মানু্ষদের জন্য ১৫ টাকা মান্থলির ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি। 
সুদীপ ব্যানার্জি বলেছেন, রেলের শতবর্ষ পুরনো ব্রিজগুলির ওপর নজর দেওয়া প্রয়োজন। রেল যাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। রেলে ২ লক্ষ গ্যাংম্যানের শূন্য পদ পূরণের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ট্রেন চালকের পদও খালি রয়েছে। শূন্যপদগুলি পূরণ হলে রেলের সমস্যা অনেকটা দূর হবে। তৃণমূল সাংসদ জোর দেন, রেলের কিচেন, পরিবেশন করা খাবারের গুণগত মান এবং পরিচ্ছন্নতার ওপর। রেলের ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর বা ডিএফসি প্রকল্পগুলি দ্রুত শেষ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন সুদীপ। রেলের কর্মসংস্কৃতির দিকে বাড়তি নজর দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
পাশাপাশি, শুরু থেকেই অধীর চৌধুরি তথ্য–‌‌পরিসংখ্যান তুলে ধরে কেন্দ্রীয় সরকারকে বিঁধেছেন। রেলের বেসরকারীকরণ থেকে পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্নবাণে বিদ্ধ করেন মোদি সরকারকে। কংগ্রেস নেতা বলেন, ‘‌এয়ার ইন্ডিয়া বিক্রি করতে চান বিমানমন্ত্রী। রেলমন্ত্রী রেল সম্পত্তি বিক্রি করতে চাইছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একদিন দেশটাই বিক্রি করে দেবেন!‌’‌ অধীর বলেন, ‘‌বাজেটে ঘোষণা করা হয়েছে রেলে ৫০ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। আগের রেলমন্ত্রী সুরেশ প্রভু বাজেটে বলেছিলেন সাড়ে আট লক্ষ কোটি ব্যয় করা হবে। সুরেশ প্রভুর দাবির কী হল? স্পষ্টতই আপনি রেলের সম্পদ বিক্রি করতে চাইছেন।’‌‌ কেন্দ্রীয় বাজেটের সমালোচনা করে অধীর বলেন, ঘুমানোর জন্য বিছানা নেই, তাঁবুর কথা বলছেন!‌ চিত্তরঞ্জন রেল ওয়ার্কশপ, রায়বরেলি রেল কারখানাকে বেসরকারীকরণের চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন কংগ্রেস সাংসদ। অধীর বাংলার জন্য অর্থ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন। যদিও জবাবি ভাষণে রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বিরোধীদের অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top