সংবাদ সংস্থা, দিল্লি: রাফাল চুক্তির দরদাম নিয়ে মোদি সরকারের এত গোপনীয়তা কেন?‌ আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে কংগ্রেস। তৎপর সভাপতি রাহুল গান্ধী নিজে। প্রতিরক্ষা চুক্তির দরদাম ইউপিএ সরকারও সংসদকে জানাত না, সংসদে এমনই বলেছিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। তা খণ্ডন করতে অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলির উদ্দেশে রাহুল টু্ইটারে পেশ করেছেন আজ তিনটি নজির, যেখানে দেখা যাচ্ছে, সদস্যদের প্রশ্নের উত্তরে প্রতিরক্ষা চুক্তির দাম সংক্রান্ত তথ্য, দাম বাড়ার তথ্য লিখিতভাবে জানিয়েছেন তখনকার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এ কে অ্যান্টনি। যেমন, ২০১০ সালের ১৫ মার্চ তারিখে রুশ বিমানবাহী রণতরী অ্যাডমিরাল গরশকভকের হস্তান্তরে দামবৃদ্ধির তথ্য জানান অ্যান্টনি। অ্যান্টনি জানিয়েছেন, ২০০৪ সালের জানুয়ারিতে যে দর ঠিক হয়েছিল ৯৭.‌৪ কোটি ডলার, কনট্রাক্ট নিগোশিয়েশন কমিটির দরকষাকষির পর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩৩ কোটি ডলার এবং সরকার তা অনুমোদন করেছে। ওই বছরই আগস্টে সুখোই বিমান কেনার ব্যাপারে প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন অ্যান্টনি। জানিয়েছেন খরচের অঙ্ক। ২০১৩–‌র ৪ মার্চ তারিখে মিরাজ চুক্তির দরদাম সংক্রান্ত তথ্য জানিয়েছেন এক প্রশ্নের উত্তরে। জেটলির উদ্দেশে রাহুলের মন্তব্য, ‘‌প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত কেনাকাটার দরদাম ইউপিএ সরকার কখনও প্রকাশ করেনি?‌ আপনারা যে মিথ্যে বলছেন, তা প্রমাণ করে দেবে তিনটি সংসদীয় উত্তর, যেখানে ইউপিএ আমলের দাম নির্ধারণের বিষয়টির স্বচ্ছতা পরিষ্কার। এবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রীকে বলুন রাফাল জেটের দামটা বলতে।’‌ গতকাল রাহুলকে লক্ষ্য করে জেটলি বলেছিলেন, আপনাদের প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রণব মুখার্জির কাছ থেকে শিখে নিন। প্রতিরক্ষা চুক্তির অর্থের অঙ্কের অর্থ জানতে চেয়েছে কংগ্রেস। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থকে ক্ষুণ্ণ করছে, অভিযোগ করেন জেটলি। তারপরই নজির–‌সহ রাহুলের এই আক্রমণ। 
এদিন কংগ্রেসের তরফে একগুচ্ছ প্রশ্ন ছুঁড়ে দেওয়া হয়েছে রাফাল নিয়ে। যেমন: ৩৬টি রাফাল বিমানের প্রতিটি কিনতে কত খরচ পড়ছে সরকারের? গত বছর ১৭ নভেম্বর তারিখে এক সাংবাদিক–সম্মেলনে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী নির্মলা সীতারামন কি রাফাল বিমান কেনার খরচ প্রকাশ করতে রাজি হননি? রামন এখন যুক্তি দেখাচ্ছেন ‘গোপনীয়তার চুক্তি’ রয়েছে। অরুণ জেটলি দেখাচ্ছেন ‘‌জাতীয় নিরাপত্তার’ যুক্তি। দুই মন্ত্রী দুরকম বলছেন কেন? কাকে আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে? এটা কি ঠিক যে ২০১২ সালের ডিসেম্বরে যখন আন্তর্জাতিক দর হাঁকা হয়েছিল, তখন রাফালের বিমান প্রতি দর দেওয়া হয়েছিল ৫২৬.১ কোটি টাকা, মোদি সরকারের আমলে নতুন করে দর কষাকষিতে তা দাঁড়ায় ১,৫৭০.৮ কোটি টাকা? যদি তা–ই হয়, দামটা বাড়ল কেন? এ সবের সঙ্গেই কংগ্রেস মুখপাত্র রণদীপ সুরজেওয়ালার প্রশ্ন, ২০১৭ সালের নভেম্বরে বিমান পিছু ৬৯৮.৮ কোটি টাকা দরে ১২টি রাফাল বিমান কিনেছে কাতার, এটা কি ঠিক? সুরজেওয়ালার অভিযোগ, সরকারই জাতীয় স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিচ্ছে।‌

জনপ্রিয়

Back To Top