আবু হায়াত বিশ্বাস,দিল্লি: সুপ্রিম কোর্টের রাফাল রায় নিয়ে সকাল থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল বিজেপি। রাহুল গান্ধীকে ক্ষমা চাইতে হবে বলে তারা দাবি তোলে। কিন্তু কংগ্রেসও জমি ছাড়তে রাজি ছিল না। শেষ পর্যন্ত বিচারপতি কে এম জোসেফের একটি বক্তব্যকে হাতিয়ার করে রাহুল গান্ধী দাবি করলেন, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে রাফাল তদন্তের দরজা খুলে গেছে। কংগ্রেস মুখপাত্র রণদীপ সুরজেওয়ালা বললেন, রাফাল রায় না–পড়েই উল্লাস করছে বিজেপি। বিজেপি এবং তাদের নেতা–‌মন্ত্রীরা দেশবাসীকে ভুল বোঝাচ্ছেন রাফাল রায় নিয়ে।
রাহুল গান্ধী টুইটে রাফাল পুনর্বিবেচনা মামলায় বিচারপতি জোসেফের রায়ের দুটি পাতা পোস্ট করে দাবি করেন, ‘‌সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জোসেফ রাফাল কেলেঙ্কারি নিয়ে তদন্তের দরজা খুলে দিয়েছেন। এখনই পুরোদমে তদন্ত শুরু হওয়া উচিত। একটি যৌথ সংসদীয় কমিটিরও (‌‌পিএসি)‌‌ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা উচিত।’‌ বিচারপতি কে এম জোসেফের রায়ের ৮৬ ও ৮৭ পরিচ্ছেদের উল্লেখ করেন রাহুল। বেঞ্চের অন্য বিচারপতির সঙ্গে সহমত পোষণ করলেও বিচারপতি কে এম জোসেফ তাঁর রায়ে বলেছেন, সুপ্রিম কোর্ট এফআইআরের নির্দেশ দিলে দুর্নীতি নিরোধক আইনের ১৭–‌এ ধারা ব্যর্থ প্রমাণিত হবে। তারপরেই তিনি বলেছেন, কোনও গুরুতর অপরাধ হয়ে থাকলে অবশ্যই এফআইআর হওয়া উচিত। যাঁরা মামলা করেছেন তাঁরা চাইলে প্রমাণ নিয়ে সিবিআইয়ের কাছে যেতে পারেন।’ তবে, এক্ষেত্রে সরকার অনুমোদন দিলে তবেই যে তদন্ত হওয়া সম্ভব তাও তিনি জানিয়ে দিয়েছেন।  কংগ্রেস মুখপাত্র সুরজেওয়ালা বলেন, শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করেছে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় সুপ্রিম কোর্টের পরিধি সীমাবদ্ধ হলেও তদন্ত সংস্থাগুলির তেমন কোনও সীমাবদ্ধতা নেই। আদালত বলেছে, সীমাবদ্ধতা না থাকায় তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা তদন্তকারী সংস্থাগুলির দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। রাফাল রায় পুনর্বিবেচনার মামলাকারী প্রশান্ত ভূষণ টুইট লিখেছেন, ‘এটা ঠিকই সুপ্রিম কোর্ট রাফাল পুনর্বিবেচনা মামলা খারিজ করেছে। তবে, বিচারপতি জোসেফ বলেছেন, আমাদের অভিযোগ গুরুতর এবং এফআইআর দায়ের হওয়া উচিত এবং সেক্ষেত্রে তদন্ত  করবে সিবিআই। কিন্তু দুর্নীতি নিরোধক আইন পরিবর্তন হওয়ায় কেন্দ্রের অনুমোদনের প্রয়োজন। সিবিআই কেন অনুমোদনের জন্য আর্জি জানায়নি?‌’‌‌‌
অন্যদিকে বিজেপি সভাপতি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, আজকের রায় প্রমাণ করে দিল যে কেন্দ্রীয় সরকার স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত। রাফাল নিয়ে ‘‌ভিত্তিহীন ও বিদ্বেষমূলক’‌ প্রচার চালানোর জন্য বিরোধীদের আক্রমণ করে তিনি বলেন, বিরোধীদের এবার ক্ষমা চাওয়া উচিত। এই ইস্যু নিয়ে যেভাবে সংসদের সময় বরবাদ করা হয়েছে  তার সমালোচনা করে শাহ বলেছেন, ‘‌এই সময়টা মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করা যেত।’‌ দলের আর এক নেতা রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেছেন, রাফাল নিয়ে অপপ্রচারের পেছনে কী কারণ ছিল এবং কারা তাতে জড়িত ছিলেন তা এবার প্রকাশ্যে আনা প্রয়োজন।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top