আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ আগুনটা লেগেছিল সামশাবাদে পশু চিকিৎসককে গণধর্ষণ এবং খুনের পর। সেই আগুনের ঘৃতাহুতি দিয়েছিল উন্নাও–এর গণধর্ষিতাকে অভিযুক্তদের জ্বালিয়ে দেওয়ার চেষ্টায়। শুক্রবার উন্নাও–এর সেই যুবতীর মৃত্যুর পর এবার বিজেপির পক্ষে তা বিরোধীদের লাগানো দাবানলে রূপ নিয়েছে।
শনিবার সকাল থেকেই উন্নাও–এর যুবতীর মৃত্যু ঘিরে সরব কংগ্রেস, সপা, বিএসপি সহ প্রায় প্রত্যেকটি বিরোধী দল। কংগ্রেসনেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র এদিন উন্নাও গিয়ে যুবতীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘‌মুখ্যমন্ত্রী বলছেন রাজ্যে অপরাধীদের জায়গা নেই। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে রাজ্যে মহিলাদের জায়গা নেই।’‌ ননদের আত্মার শান্তি কামনায় দোষীদের মৃত্যুদণ্ড চেয়ে যুবতীর বউদি সাংবাদিকদের বলেন, তাঁদের পাশে থেকে ন্যায়বিচারের জন্য একসঙ্গে লড়ার বার্তা দিয়েছেন প্রিয়াঙ্কা। মৃতা যুবতীর বাবা অবশ্য কোনও রাখঢাক না করেই হায়দরাবাদের অভিযুক্তদের মতোই তাঁর মেয়ের হত্যাকারীদেও গুলি করে হত্যা নাহলে এক সপ্তাহের মধ্যে ফাঁসি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

 
এর আগে সকালেই উত্তর প্রদেশের যোগী সরকারকে তুলোধনা করে টুইটারে প্রিয়াঙ্কা প্রশ্ন করেন, আগের ঘটনা জেনেও কেন যুবতীকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দেওয়া হয়নি, তাঁর এফআইআর নিতে প্রথমে অস্বীকার করেছিল পুলিস। মহিলাদের উপর অত্যাচার রুখতে যোগী সরকার কী পদক্ষেপ করছে তাও টুইটারে জানতে চান প্রিয়াঙ্কা।
শনিবার নিজের লোকসভা কেন্দ্র ওয়ানাড়ের জনসভায় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী মোদি সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে বলেছেন, ‘‌সারা বিশ্বে এখন ভারত ধর্ষণের রাজধানী হিসেবে পরিচিত হয়েছে। বিদেশি রাষ্ট্রগুলি প্রশ্ন তুলেছে কেন ভারত তার নিজের মেয়ে, বোনেদের দেখভাল করতে পারছে না।’‌ নাম না করে মোদিকে একহাত নিয়ে রাহুলের খোঁচা, ‘‌আমাদের সাংগঠনিক পরিকাঠামো ভেঙে পড়েছে, মানুষ নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে কারণ যে মানুষটা এই দেশটা চালাচ্ছেন তিনি হিংসা এবং বাছবিচারহীন বৈষম্যে বিশ্বাস করেন। ‌উত্তর প্রদেশে বিজেপির এক বিধায়ক ধর্ষণে জড়িয়ে পড়ে আর তা নিয়ে কিছুই বলেন না প্রধানমন্ত্রী।

’‌
এদিন দুপুরে উত্তর প্রদেশের রাজ্যপাল আনন্দীবেন প্যাটেলের সঙ্গে দেখা করেন বিএসপি সুপ্রিমো মায়াবতী। রাজভবন থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বললেন, ‘‌উত্তর প্রদেশে অপরাধীদের মনে আর কোনও ভীতি কাজ করছে না। ধর্ষণ যেন এখন সাধারণ ঘটনা। নিজে একজন মহিলা হয়ে উত্তর প্রদেশের রাজ্যপালের উচিত এব্যাপারে অবিলম্বে চিন্তাভাবনা করা। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্য পুলিসের সঙ্গে আলোচনায় বসা উচিত তাঁর।’‌ মায়াবতীর অভিযোগ, বর্তমানে বিজেপি সরকারের আমলে রাজ্যে মহিলারা নিরাপদ নয়। ধর্ষকদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মৃত্যুদণ্ড দিতে কেন্দ্রকে দাবি জানিয়েছেন মায়াবতী। 
উন্নাওকাণ্ডের দায় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং ডিজিপির পদত্যাগের দাবিতে শনিবার সকাল থেকে রাজ্য বিধানসভার সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসেছেন সপা সভাপতি অখিলেশ যাদব। সাংবাদিকদের কাছে তাঁর প্রতিক্রিয়া, ‘‌এটা ঘৃণ্যতম অপরাধ।

আজ একটা কালো দিন। যতক্ষণ পর্যন্ত না মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্য স্বরাষ্ট্রসচিব এবং রাজ্য ডিজিপি পদত্যাগ করবেন ততক্ষণ পর্যন্ত ন্যায় মিলবে না।’‌ রবিবার এই ঘটনার প্রতিবাদে রাজ্যজুড়ে শোকসভা আয়োজন করবেন তাঁরা বলে জানিয়েছেন অখিলেশ।
উন্নাওকাণ্ডে বিরোধীদের প্রতিবাদকে সমর্থন জানিয়ে এদিন বিজেপি সাংসদ গৌতম গম্ভীর বলেন, ‘‌আজ একজন ভারতীয় হিসেবে আমি লজ্জিত যে এক মহিলাকে ধর্ষণ করা হল এবং তারপর অভিযুক্তরাই তাঁকে এভাবে জ্বালিয়ে দিল। এটা দুঃখজনক যে দেশ বা জাতি হিসেবে আমরা তাঁকে সুরক্ষা দিতে পারলাম না।’‌ ধর্ষণের ঘটনায় দলমত নির্বিশেষে একজোট হয়ে কড়া আইন প্রণয়নের জন্য লড়াইয়ের আহ্বান করেছেন গম্ভীর। কিন্তু তাঁর এই মন্তব্যে স্বভাবতই অস্বস্তিতে পড়েছে উন্নাওকাণ্ডে জাঁতাকলে পড়া বিজেপি।
ছবি:‌ এএনআই      ‌‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top