সংবাদ সংস্থা, দিল্লি: প্রিয়াঙ্কার বাড়িতে নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন শুধুমাত্র কয়েকজন হোমগার্ড। জানালেন গত ২৫ নভেম্বর ওই বাড়িতে ঢুকে পড়া কংগ্রেসের মহিলা নেত্রী শারদা ত্যাগী। সেদিনের ঘটনা সম্পর্কে ত্যাগী মঙ্গলবার বলেন, ‘‌ওই দিন প্রিয়াঙ্কার বাড়ির নিরাপত্তায় ছিলেন কয়েকজন হোমগার্ড। সেদিনই আমি প্রথম ওই বাড়িতে যাই। প্রিয়াঙ্কার বাড়ির নম্বরও জানতাম না। কংগ্রেস অফিসে ফোন করে তা জানতে পারি। যখন গাড়ি নিয়ে বাড়ির সামনে গেলাম, তখন নিরাপত্তারক্ষীরা দেখতেও চাননি গাড়িতে কারা বসে রয়েছেন। গাড়ি দেখে সঙ্গে সঙ্গেই ব্যারিকেড তুলে নেওয়া হয়। এবং গেট খুলে দেওয়া হয়।’‌ ‌অথচ এ বিষয়ে এদিন অমিত শাহ বলেন, ‘‌ঘটনাটা ঘটেছিল ২৫ নভেম্বর। প্রিয়াঙ্কার কাছে খবর আসে রাহুল তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসছেন কালো এসইউভি–‌তে চেপে। ঠিক সেই সময় একই ধরনের একটা কালো এসইউভি চলে আসে। সে কারণেই নিরাপত্তা পরীক্ষা ছাড়াই ত্যাগীর গাড়ি বাড়ির ভেতর ঢুকে পড়ে।’‌ 
মঙ্গলবার রাজ্যসভায় শাহ জানিয়েছেন, এই ঘটনায় উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের আদেশ দেওয়া হয়েছে। তিনজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। শাহ আরও জানান, গান্ধী পরিবারের তিনজন জেড প্লাস শীর্ষস্তরের নিরাপত্তা পাবেন। তাঁদের রক্ষী থাকবেন এসপিজি–‌র প্রাক্তনীরা। এছাড়া ওই তিনজনের জন্য অ্যাম্বুল্যান্সও রাখা থাকবে। 
এদিনই রাজ্যসভায় পাস হয় এসপিজি আইনের সংশোধনী বিল। নতুন আইনে এসপিজি নিরাপত্তা পাবেন শুধু প্রধানমন্ত্রী এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। তবে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এই সুযোগ পাবেন পদ ছাড়ার দিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত। বিলের প্রতিবাদে ওয়াক আউট করে কংগ্রেস। নিরাপত্তা ইস্যুতে এদিন কংগ্রেসের সঙ্গে রীতিমতো তরজায় জড়িয়ে পড়েন অমিত শাহ। গান্ধী পরিবারের নিরাপত্তা ইস্যুতে মোদি–শাহ জুটিকে সরাসরি দায়ী করেন এআইসিসি–‌র সাধারণ সম্পাদক কে কে বেণুগোপাল। তাঁর বক্তব্য, ‘‌সস্তা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা মেটাতে গিয়ে কারোর জীবন বিপন্ন করা সরকারের উচিত নয়। প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর বাসভবনের নিরাপত্তায় যে বড়সড় ফাঁক তৈরি হয়েছিল, তাতে প্রমাণ হচ্ছে এসপিজি নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে নিয়ে মোদি ও শাহ আমাদের নেতাদের জীবন বিপন্ন করে তুলেছেন।’‌ 
অন্যান্য বিরোধী দলের সাংসদরাও এই ইস্যুতে কংগ্রেসের পাশে দাঁড়ান। পাল্টা জবাবে অমিত শাহ বলেন, ‘‌নিরাপত্তা কখনও কারও মর্যাদার প্রতীক হতে পারে না। কেন শুধু গান্ধী পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে কথা উঠছে? গান্ধী পরিবার–‌সহ দেশের ১৩০ কোটি লোকের নিরাপত্তার দায়িত্ব সরকারের।’‌ এদিন সরকারের নিরাপত্তা নীতির সমালোচনা করেছেন প্রিয়াঙ্কার স্বামী রবার্ট ভদ্রও। 
তিনি মন্তব্য করেন, এটা শুধু প্রিয়াঙ্কা বা তাঁর ছেলেমেয়েদের নিরাপত্তার ইস্যু নয়। দেশের সব নাগরিক, বিশেষ করে দেশের মহিলাদের নিরাপত্তা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ অস্বীকার করে শাহ বলেন, ‘‌এসপিজি নিরাপত্তা বিশেষভাবে প্রধানমন্ত্রীরই প্রাপ্য। অন্য যে কেউ এই সুযোগ পেতে পারেন না।’‌ 

ছবি: এএনআই

জনপ্রিয়

Back To Top